আফগানদের বিপক্ষে হারের কারণ জানালেন সাকিব

টেস্টের পর এবার টি-টোয়েন্টিতেও আফগানিস্তানের কাছে হারল বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানদের কাছে ২৫ রানে হারে স্বাগতিকরা।

দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিতে না পারায় আফগানদের কাছে শেষ ম্যাচ হারতে হয়েছে বলে মনে করেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন এনেও তারা প্রত্যাশামাফিক পারফরম্যান্স করতে না পারায় হতাশ সাকিব।

রোববার রাতে আফগানিস্তানের দেয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনেন অধিনায়ক সাকিব। সৌম্যর পরিবর্তে লিটনের সঙ্গে ওপেন করেন মুশফিকুর রহিম। এতে কোনও লাভ হয়নি। দলীয় ১১ ও ব্যক্তিগত ৫ রানে মুশফিক আউট হলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। অবশ্য এর আগেই ইনিংসের দ্বিতীয় বলে শূন্য রানে আউট হন ওপেনার লিটন দাস।

এরপর অধিনায়ক সাকিব ১৫ ও সৌম্য সরকার শূন্য রানে আউট হলে ৩২ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।

সাব্বিরকে নিয়ে ভালই খেলছিলেন মাহমুদুল্লাহ। দলীয় ৯০ ও ব্যক্তিগত ৪৪ রানে মাহমুদুল্লাহ আউট হলে সাব্বিরও টিকতে পারেননি। স্কোর বোর্ডে ৫ রান যোগ হতেই সাজ ঘরে ফেরেন ২৪ রান করা সাব্বির। আগের ম্যাচের নায়ক আফিফ হোসেন ১৬ রানে আউট হলে সব আশা শেষ হয়ে যায় স্বাগতিকদের। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান আউট হলে উল্লাসে ফেটে পড়ে আফগানিস্তানের খেলোয়াড়রা। শেষ পর্যন্ত ১৩৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

এর আগে নবীর ঝড়ো অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ১৬৪ রান তোলে আফগানিস্তান। ৫৪ বলে ৩ চার ও ৭ ছক্কায় ৮৪ রানে অপরাজিত থাকেন এ ব্যাটসম্যান। এছাড়া আসগার আফগান ৪০ রান করেন। অবশ্য শুরুতে সাইফুদ্দিন ও সাকিব ভালই চেপে ধরেছিল আফগান ব্যাটসম্যানদের। প্রথম ১০ ওভারে ৪ উইকেটে ৬০ রান তোলে তারা। পরের ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১০৪ রান করে আফগানিস্তান। ৩৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন সাইফুদ্দিন। অপরাজিত ৮৪ রানের জন্য ম্যাচ সেরা হন আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী।

এদিন, প্রথম ১০ ওভারে টাইগারদের বোলিং ছিল দুর্দান্ত। এসময়ে ৪ উইকেট হারিয়ে ৫৯ রান তোলে আফগানরা। কিন্তু এরপরই পথ হারায় স্বাগতিকরা। টাইগার বোলাররা শুরু করেন বাজে বোলিংয়ের প্রদর্শনী। এর ফায়দা লুটে শেষ ১০ ওভারে ১০৫ রান তুলে স্কোরটাকে সাকিবদের নাগালের বাইরে নিয়ে যান আসগর-নবী।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হারের কারণ জানালেন টাইগার অধিনায়ক। বলেন, সিনিয়রদের দায়িত্ব নিতে ব্যাটিং পজিশন বদলানো হয়। কারণ তারা ভালো খেললে ম্যাচে টিকে থাকা যায়।

সাকিব বলেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ দিকে আমরা বেশ কিছু ভুল করেছি। দলীয় শতকের পর তাইজুলের বলে আউট হন ইনফর্ম আসগর। তবে সেটি ছিল নো বল। এর কল্যাণে বেঁচে যান তিনি। এতে মোমেন্টাম পেয়ে যায় সফরকারীরা। কার্যত ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ওটাই। পরে আসগর-নবীর ব্যাটিং তাণ্ডবে সব এলোমেলো হয়ে যায়।

দলের সিনিয়রদের ব্যর্থতার কারণেই প্রতি ম্যাচে ভরাডুবি ঘটছে বলে সাকিবের মূল্যায়ন। আর তাই এ সমস্যা না কাটিয়ে উঠতে পারলে পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙা যাবে না।

-এস