অভিভাবকরাই হচ্ছেন সন্তানের জীবনের প্রথম শিক্ষক। ছবি: সংগৃহীত

শিশুরা বরাবরই অনুকরণ প্রিয়, অনুকরণ নির্ভর। তারা সবসময়ই অন্যের কাছ থেকে শিখে থাকে, সে অনুযায়ী আচরণ করতেও পছন্দ করে। তাদের আচরণ কেমন হবে তা অনেকটাই নির্ভর করে বড়দের উপর। এ কারণে বড়দের উচিত এ বিষয় কিছুটা কৌশলী হওয়া। অপ্রীতিকর কোনো আচরণের জন্য আপনার সন্তানকে শাসন করার আগে জেনে নিন কিছু কৌশলী আচরণ-

ঝগড়া বিবাদ
এটা প্রায়ই শোনা যায়, বাচ্চাদের সামনে ঝগড়াঝাটি করা উচিত না, এতে তাদের মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। কথাটা আংশিকভাবে ভুল। কিছু কিছু বিবাদ বাচ্চাদের সামনে করাই শোভনীয়। তবে এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে বিবাদটি যেন হিংস্র না হয়ে ওঠে এবং ঝগড়ার ক্ষেত্রে শব্দ চয়নে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোনো বিষয়ে দু পক্ষের মতামত ভিন্ন হতেই পারে, সেটা নিয়ে দরজা বন্ধ করে চেঁচানোর প্রয়োজন নেই, যুক্তি দ্বারা যার যার দৃষ্টিকোণ ব্যক্ত করতে পারেন। এর কারণে বাচ্চারা যৌক্তিক-অযৌক্তিক ব্যাপারগুলো সম্পর্কে অবগত হবে, যে কোনো সমস্যাকে ভিন্নভাবে ভাবতে এবং মুক্ত চিন্তা করার সুযোগ পাবে। বাচ্চা যখন দেখবে তার বাবা-মা দুজনই দুজনের কথা শুনছে, বোঝার চেষ্টা করছে, তখন তার নিজেরই বাবা-মার প্রতি সম্মান বাড়বে।

তুলনা
বড়রা প্রায়ই এই ভুলটি করে থাকেন। অন্য বাচ্চার সাথে নিজের বাচ্চার তুলনা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ তুলনায় উদ্যমী হওয়ার বদলে বরং বাচ্চারা নিরুৎসাহিত হয়। ভালো কাজটির জন্য তাকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে বরং আদর দিয়ে বুঝাতে হবে। ভারতীয় চলচ্চিত্র ‘তারে জামিন পার’ চলচ্চিত্রটি এ ক্ষেত্রে একটা ভালো উদাহরণ। চলচ্চিত্রটির মূল চরিত্র ঈশান অন্য বাচ্চাদের থেকে পিছিয়ে পড়া শিশু। বাবা-মা ক্রমাগত অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে তাকে তুলনা করে এক ধরনের মানসিক চাপ দিতে থাকেন তাকে। ফলে আট বছরের ঈশানের মধ্যে বাসা বাঁধে হতাশা। এক পর্যায়ে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বোর্ডিং স্কুলে। বোর্ডিং স্কুলে থাকা তার এক শিক্ষক খুঁজে পান ঈশানের পিছিয়ে পড়ার কারণ। বিভিন্ন ইতিবাচক প্রেরণার মাধ্যমে ঈশানের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন তিনি।

ইতিবাচক আলোচনা
ঘরের পরিবেশ এবং শিশুর সামনে বড়দের সংলাপের পুরোটাই হওয়া উচিত ইতিবাচক ও প্রেরণামূলক। শিশুর কোন কাজটা ভালো হয়েছে, কী করলে আরেকটু ভালো হবে- এসব আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ। বাচ্চাকে সবসময় উৎসাহিত করা, ভালো কাজে সাহস দেওয়া, পাশে থাকা- বাচ্চার প্রতিপালনে সহায়তা করে।

পরিচিত মানুষের পরিধি
প্রায় প্রতিটি শিশুরই পরিচিত মানুষের পরিধি কম থাকে। প্রথমে পরিবার, তারপর স্কুল শুরু হলে শিক্ষক, বন্ধু ও সহপাঠী এবং আরও অনেকের সংস্পর্শে আসার সুযোগ ঘটে তাদের। বাবা-মার উচিত এ বিষয়ে একটু লক্ষ্য রাখা। ভালো-মন্দ বুঝে চলার শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটা মানুষের প্রতি তাদের আচার-ব্যবহার এবং শ্রদ্ধাবোধ সম্পর্কেও ধারণা দিতে হবে।

অভিভাবকরাই হচ্ছেন সন্তানের জীবনের প্রথম শিক্ষক। অন্যদের প্রতি আপনার আচরণ কেমন, তা দেখেই তারা মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ও আচরণের ধারণা পেয়ে থাকে। অন্যের প্রতি আপনি দায়িত্ববান, সৎ ও শ্রদ্ধাশীল হলে, আপনার সন্তান নিজে থেকেই এসব মানবিক গুণাবলীগুলো আয়ত্ত করে নেবে।

আজকের পত্রিকা/সিফাত