দৈনন্দিন জীবনে অনেকেই নানা ধরণের ঘুমের সমস্যায় ভোগে। ছবি : সংগৃহীত

আপনার কি সারাদিনই ঘুম পায়? কাজের মাঝে প্রায়ই ঘুমিয়ে পড়েন? কেন এত বেশি ঘুম পায়? আপনি নারকোলেপ্সিতে ভুগছেন না তো? দেখুন তো এই সমস্যাগুলোও হচ্ছে কিনা-

নারকোলেপ্সি 

নারকোলেপ্সি একধরনের স্নায়বিক ব্যাধি, যা মানুষের মস্তিস্কের নিদ্রা আর জাগরণ সঞ্চালনকারী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। এই ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীর দিনের বেলায় খুব ঘুম পায়। হঠাৎ করে ঘুমিয়ে পড়ার দৃষ্টান্তগুলো আচমকাই হয়, স্থান-কাল নির্বিশেষে। নারকোলেপ্সি আক্রান্ত ব্যক্তি গাড়ি চালাতে চালাতে, কথা বলতে বলতে, এমনকি খেতে খেতেও হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। বেশিরভাগ রোগী জানেন না যে তারা নারকোলেপ্সি ভুগছেন। নারকোলেপ্সিতে ভোগার অন্যতম লক্ষণ হল ওজন বাড়া৷ ঘুম না হলে অতিরিক্ত মেদ জমার প্রবণতা দেখা যায়৷

নারকোলেপ্সির সবচেয়ে বড় লক্ষণ হল কাজের মধ্যে সারাদিন ঘুম পাওয়া৷ ছবি : সংগৃহীত

ক্যাটালেপ্সি

আপনার কি মাঝে মাঝেই পেশী শিথিল হয়ে যায়? হাত, পা কিছুই নাড়াতে পারেন না? এই সমস্যাকে বলা হয় ক্যাটালেপ্সি৷ সাধারণত ঘুম যখন পাতলা হয়ে আসে আরইএম পর্যায়ে এমনটা হয়ে থাকে৷ ক্যাটালেপ্সি হচ্ছে এক ধরনের শারীরিক অবস্থা, যখন মানুষের শরীরের পেশীগুলো আর কাজ করে না এবং মস্তিষ্কের কোন ধরনের কাজে অংশগ্রহণ করে না। এক কথায় বলতে গেলে, মানুষ সকল ধরনের কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তবে এই সমস্যাটি সাময়িক। কিছুক্ষণ পরই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে আক্রান্ত ব্যক্তি।

ক্যাটালেপ্সি সমস্যাটি সাময়িক। ছবি : সংগৃহীত

স্লিপ প্যারালাইসিস

বিশেষজ্ঞদের মতে, বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস স্রেফ ইন্দ্রিয়ঘটিত ব্যাপার। যখন শরীর গভীর ঘুমের একটি পর্যায় থেকে আরেকটি পর্যায়ে প্রবেশ করে, তখনই এটি ঘটে থাকে। বোবা ধরলে একেকজনের একেক রকম অনুভূতি হয়। কেউ ঘরের ভেতর ভৌতিক কিছুর উপস্থিতি টের পান, কেউ দুর্গন্ধ পান, কেউ বা আবার ভয়ানক কোনো প্রাণী দেখতে পান। মোট কথা তখন হ্যালুসিনেশনের মতো একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়। গভীর ঘুমের একটি পর্যায় থেকে আরেকটি পর্যায়ে যাওয়ার সময় মস্তিষ্ক সতর্ক হয়ে ঘুম ভেঙে গেলেও শরীর আসলে তখন ঘুমেই থাকে। অনেকেই বিশ্বাস করে যে অতিলৌকিক কোনো কিছু এর জন্য দায়ী। আসলে এটি স্রেফ একটি শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার। অন্য কিছু নয়। ঘুম বিশেষজ্ঞরা এটিও বলেন যে যখন ঘুমের এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে যাওয়ার সময় শরীর সাবলীলভাবে নড়াচড়া করতে পারে না, তখনই মানুষ বোবা ধরা বা স্লিপিং প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়।

স্লিপ প্যারালাইসিস। ছবি : সংগৃহীত

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/