সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি : সংগৃহীত

আন্দোলনের ডাক দিয়ে ঘরে বসে থাকলে আন্দোলন সফল হয় না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘সংসদ নিয়ে বিএনপির স্ববিরোধিতা পরিষ্কার’। তারা কীভাবে আন্দোলন করবেন। পার্টির মহাসচিব নির্বাচিত হয়েও শপথ নিলেন না। তার জায়গায় আবার বিএনপির জেলা সভাপতি উপ-নির্বাচন করছেন। এই নীতি নিয়ে যারা চলেন তারা অতীতে ব্যর্থ হয়েছে, ভবিষ্যতে কীভাবে সফল হবে।’

১০ জুন সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক ইস্যুতে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের ডাক দিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঘরে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখতে থাকেন। ঘরে বসে থাকলে আন্দোলন কি সফল করা যায়?

‘পরিবেশ না থাকায় বিএনপি নেতারা এলাকায় যেতে পারেনি’ বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে সেতু মন্ত্রী বলেন, ‘এবার এ রকম কোনো পরিবেশগত সমস্যা কোথাও ছিল না। এটা বিরোধী দলের একটা সুবিধা।

‘সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন এ সংসদ অবৈধ’ এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যে সংসদ অবৈধ, সে সংসদের সদস্য হওয়ার জন্য তিনি এত সিরিয়াস হলেন কেন? সংসদ অবৈধ হলে তিনি কি বৈধ? কোন বৈধতার সূত্রে তিনি সংসদে গেলেন?’

তিনি বলেন, ‘সংসদ নিয়ে বিএনপির স্ব-বিরোধিতা পরিষ্কার। পার্টির মহাসচিব নির্বাচিত হয়েও শপথ নিলেন না। তার জায়গায় আবার বিএনপির জেলা সভাপতি উপ-নির্বাচন করছেন। এই নীতি নিয়ে যারা চলেন, তারা অতীতেও আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছেন, আগামীতে ব্যর্থ হবেন’।

এ সময় এবারের ঈদ যাত্রার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ ঈদ যাত্রা এবার ভালো ছিল। শুরু টাঙ্গাইলে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার হার এবার কম ছিল। এটা আসলে সড়কের শৃঙ্খলার অভাবে হয়েছে। আমাদের স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ নেই। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে’।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেতুতে একমাত্র রাষ্ট্রপতির গাড়ি টোলবিহীন চলাচল করে। প্রধানমন্ত্রীকেও টোল দিয়ে এই সেতু অতিক্রম করতে হয়। তবে ভবিষ্যতে এই সেতু দিয়ে চলাচল করা অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশের গাড়ি টোল ফ্রি করা যায় কি-না সে বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে’।

আগামী এক মাসের মধ্যে রাইড শেয়ারিং নীতিমালা অনুমোদন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের কাছে সরকার জিম্মি নয়। তাদের আন্দোলনের কারণেই সড়ক পরিবহন আইনটি কার্যকর করা যায়নি। আন্দোলনের সময় তারা ছিল ঐক্যবদ্ধ। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আলোচনা করে এই আইনটি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা করা যায়নি’।

রাজনৈতিক পরিবেশ না থাকায় বিএনপির নেতারা ঈদে এলাকায় যেতে পারেনি- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঈদে তৃণমূলে নেতাকর্মী কম ছিল কেন আমরা তা খতিয়ে দেখছি। পরিবেশগত কোনো সমস্যা হয়নি’।

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়া বা পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে। সরকারের কোনো দুর্বলতা নেই। কারো প্রতি শৈথল্য দেখানোর সুযোগ নেই। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে’।

আজকের পত্রিকা/আর.বি