আন্দোলন করতে গেলেই ছাত্রলীগ ও পুলিশ হামলা করে রাবিতে!

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক সেবন, যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনকে কোন ধরনের কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। পুলিশের কাজ জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই পুলিশের দ্বারাই আমরা আজ নির্যাতিত হচ্ছি। প্রক্টরিয়াল বডি থাকা সত্বেও আজ আমাদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশি হামলার ঘটনা ঘটছে। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বুধবার বিকেল ৩টায় শিক্ষার্থীরা এসব কথা বলেন।

মানববন্ধনে আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘জাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক মারধরের ঘটনায় আমরা প্রধান সড়কে আন্দোলনে নেমেছিলাম। সেখানে আমাদের দাবি ছিলো মারধরের ঘটনায় যে সকল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা যুক্ত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা। আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও একাত্বতা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে পুলিশ বাঁধা দেয়। তারা আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে আমাদের আন্দোলন পণ্ড করে দেয়। পরে আমাদের মধ্যথেকে চার জনকে থানায় নিয়ে মামলা করার হুমকি দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি থাকা সত্বেও শিক্ষার্থীরা তাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে রাজ পথে নামবার কারনে তাদের ওপর পুলিশি হামলা করা হয়। এর মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা আর কি হতে পারে?’ এসময় শিক্ষার্থীরা বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আন্দোলনকারীরা আরও বলেন- ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক আছেন যারা দুর্নীতিকে সর্মথন করেন না, কিন্তু কতজন শিক্ষক আছেন যারা এই দুর্নীতির প্রতিবাদ করে? এর সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। শিক্ষকরা হলেন জাতির বিবেক। আমরা চাই জাতির এই বিবেগ জাগ্রত হোক। এসময় আন্দোলনকারীরা সকল দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র-শিক্ষককে রুখে দাড়ানোর আহ্বান জানান।’

প্রসঙ্গত, দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত মঙ্গলবার মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামলে পুলিশি হামলার ঘটনা ঘটে।

এ হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ফের গতকাল মানববন্ধন করে রাবি শিক্ষার্থী।

এমএ জাহাঙ্গীর/রাবি