‘নিবেদিতা’ নামের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আনিকা ইসলাম। কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রবেশের মধ্যে দিয়ে আসবে নারীর ক্ষমতায়ন, উন্মুক্ত হবে নারী অধিকারের পথ এমন লক্ষ্য নিয়েই তার এই সংগঠন। ঢাকা চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লাতে চলছে তার কাজ।
শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্পোরেট দুনিয়াতে প্রবেশের পর নিজের স্বপ্ন নিয়ে পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করেন তিনি। তবে শুরুটা মূলত ছিল ফেসবুক কেন্দ্রিক এমনটাই জানান আনিকা।

বর্তমানে এই সংগঠনটি নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক নানারকম প্রশিক্ষণের আয়োজন করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, নারী উদ্যোক্তারা নিজেদের ব্যবসাকে বৃদ্ধি করার শিক্ষা লাভ করে থাকেন এখান থেকে। এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি নারী উদ্যোগক্তা নিবেদিতার তালিকাভুক্ত আছে যাদের সব ধরনের সাহায্য করে সংগঠনটি।

কারা কারা উদ্যোক্তাদের ঋণ দিয়ে থাকে বা কিভাবে সহজে ঋণ পাওয়া যেতে পারে সে বিষয়েও সদস্যদের ধারণা দেয় নিবেদিতা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপে রয়েছে ১৫ হাজার সদস্যের সঙ্গে জ্ঞানমূলক আলোচনা বা দক্ষতাবৃদ্ধির নানারকম কন্টেন্ট শেয়ার করা হয়।

আনিকা ইসলাম বলেন, ‘শুরুর দিকে ঠিক কি নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন এটাই মানুষকে বোঝাতে কষ্ট পেতে হতো। দক্ষতা সরাসরি বাহ্যিক জিনিস নয় বলে মানুষের আগ্রহ কিছুটা হলেও কম ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা সবাই বুঝে এসেছে। মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যে অদ্ভুত একটা প্রশান্তি আছে। তাছাড়া মেয়েদের শেখার আগ্রহ এবং ভাল কিছু করার আগ্রহ আমাকে সবসময়ই উৎসাহ দিয়ে থাকে।’

এছাড়া গত ৩১ আগস্ট ‘নিবেদিতা উইমেন সামিট ২০১৯’ আয়োজন করে এই সংগঠনটি। নারী উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন সমাজের প্রত্যেকটি অংশে নিশ্চিত করা এবং নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কুমিল্লাতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ের আধুনিকতম সংযোজন ই-কমার্সের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ক্ষুদ্র ই-কমার্স উদ্যোক্তা এবং ভবিষ্যত উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বিনিময় করেন। এই সম্মেলনে নিবেদিতার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থী ছাড়াও প্রশাসনের বহু প্রতিভাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং তরুণ প্রজন্মের কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ই-কমার্স এবং দক্ষতাবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত সরকারের প্রতিনিধিরা কীভাবে কেউ সরকারী পূর্ণ সুবিধা ভোগ করতে পারেন তা তুলে ধরেন। সম্মেলনে প্রায় তিনশত নারী উদ্যোক্তা ও আগ্রহী নারী উদ্যোক্তারা অংশ নেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। আগামী ৫ বছরের মধ্যে কয়েক বিভাগে অন্তত ১০ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্যে বর্তমানে এগিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।