নিজের জমিতে আলতাফ হোসাইন।

দিনাজপুরের খানসামায় আদা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন আলতাফ হোসেইন। সফলতার সাথে তিনি নিজেকে স্বাবলম্বী ও প্রতিষ্ঠিত করতে আদা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। তিনি খানসামার খামারপাড়া ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামে আদা চাষে সফলতার অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

জানা গেছে অভাব অনটনকে কাছ থেকে দেখে, সংসারের হাল টানতে টানতে এক সময় আগ্রহি হয়ে উঠেন এ আদা চাষে। তিনি একটু একটু করে আদা চাষাবাদ করতে করতে দুই একর জমিতে গত ২০১৬ সনে বিশ লাখ টাকার মত আদা বিক্রি করেন। সেই সময় আদা চাষে খরচ হয় মাত্র দুই লাখ টাকার মত। যা সাথি ফসল বেগুন ও আদার পিলাই বিক্রি করে আদা আবাদের খরচ উঠে আসে। এরই ফল শ্রুতিতে ২০১৭ ইং সালে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কৃষক হিসেবে তিনি এওর্য়াড পান। খানসামা আলতাফ হোসেইন আদা চাষে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার আদা চাষ সাড়া জাগিয়েছে, শুধু উপজেলায় নয় জেলার বাইরেও।

এ সম্পর্কে সফল আদা চাষি আলতাফ হোসেইন বলেন এ আদা চাষ এক সময় আমাাদের উপজেলায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। আমার আদা চাষ ও স্বাবলম্বী হওয়া দেখে এলাকার অনেক কৃষক আদা চাষে আগ্রহি হয়ে উঠেছেন। যে কোন আবাদের চেয়ে আদা চাষাবাদ শ্রম ও অন্যান্য খরচ কম লাগে। এ আদা চাষে লাভের পরিমান অনেক বেশি। এবার আমি দেড় একর জমিতে আদা আবাদ করেছি। এবার আদা পনেরো লাখ টাকার বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। সাথি ফসল হিসেবে বেগুন আছে। আদায় খরচ আসতে পারে দুই লাখ টাকার মত। যা আদার পিলাই ও সাথি ফসল বেগুন বিক্রি করে খরচের টাকা চলে আসবে।

সরজমিনে খামারপাড়া ইউপি’র খামারপাড়া গ্রামে গেলে মো.জয়নাল বলেন আমি শুনেছি আদা আবাদে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি। আমি দেখেছি বীরগঞ্জ থেকে অনেক কৃষক আলতাফের কাছে আসে আদা বীজ নেয়ার জন্য। তার আদা চাষ দেখে তারা আগ্রহি হয়ে উঠেছেন। খামার পাড়ার আলতাফকে দেখে এ এলাকা অনেক কৃষকই আদা চাষে আগ্রহি হয়ে উঠেছেন বলে জানায় ডাঙ্গাপাড়ার কৃষক নাজিরুদ্দিন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন আদা একটি ওষুধি জাতীয় ফসল। এর চাহিদা বারো মাসেই থাকে। আদা চাষ করে আলতাফ হোসেইন স্বাবলম্বী হয়েছে। আমি জেনেছি তার আদা আবাদ দেখে এলাকার কুষক এমনকি বাইরের উপজেলার অনেক কৃষক আদা চাষে আগ্রহি হয়ে উঠেছে।

তারিকুল ইসলাম চৌধুরী/খানসামা,(দিনাজপুর)/এমএআরএস