প্রেমিক উজ্জল

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে কলেজ ছাত্র উজ্জ্বল মিয়া (২২) হত্যা ঘটনায় আদালতে দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘন্টা স্বীকারোক্তিমূলক জবান্দবন্দি দিয়েছে ফারজানা। অন্তরঙ্গ মুহূর্তে থাকাকালীন অন্য বান্ধবীর সাথে মোবাইলে কথা বলার কারণেই ক্ষিপ্ত হয়ে উজ্জ্বলকে খুন করে সে।

২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৫৬ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় প্রদান করা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকান্ডের বর্ণনা দেন ফারজানা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লাখাই থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম ফারজানা ও তার বাবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করেন। রাত ৯টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফারজানার পিতা মঞ্জু মিয়ার জবানবন্দী গ্রহণ চলছিল বলেও জানান তিনি।

জবানবন্দীর বরাত দিয়ে আদালত সূত্র জানায়, বৃন্দাবন সরকারি কলেজে অনার্স ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত ফারজানার সাথে ফেসবুকে পরিচয় হয় উজ্জ্বলের। প্রায় ৩ মাস সম্পর্ক চলার পর বাড়িতে একা থাকার সুবাদে ফারজানার সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে সে।

এ সময় ফারজানা কান্নাকাটি করলে কোরআনে হাত রেখে বিয়ের শপথ করে উজ্জ্বল। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তাদের দেখা হতো। এরই মধ্যে উজ্জ্বলের আরো ৪টি মেয়ের সাথে সম্পর্ক থাকার কথা জানতে পারলে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন ফারজানা। এক পর্যায়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে ফারজানার সাথে দেখা করতে যান উজ্জ্বল। অন্তরঙ্গ মুহূর্ত চলাকালে উজ্জ্বলের মোবাইলে অন্য একটি মেয়ের কল আসলে রসিকতার সাথে কথা বলতে থাকে সে। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা পাথর (মসলা পিশার পুতাইল) দিয়ে উজ্জ্বলের মাথায় আঘাত করে ফারজানা। পরবর্তীতে একাধিক আঘাত এবং হাতের রগ কাটার মাধ্যমে মৃত্যু নিশ্চিত করে রাতেই ঘরের ভেতরে মরদেহ মাটিচাপা দেয় সে। পরদিন ঢাকায় ফুটপাতের ব্যবসায়ী পিতা মঞ্জু মিয়ার কাছে চলে যায় ফারজানা।

এর ১০/১২ দিন পর বাবা মঞ্জু বাড়িতে এসে উজ্জ্বলের মরদেহ তুলে নিয়ে মেদী বিলে ফেলে রাখে। পরবর্তীতে মঞ্জু মিয়া ঢাকায় চলে গেলে বাবা-মেয়ে একসাথে সেখানে অবস্থান করতে থাকে। পরবর্তীতে আবারো বাড়িতে ফিরে আসলে কল লিস্টের সূত্র ধরে পুলিশ তাদেরকে আটক করে।

পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায়, ফারজানা ছাড়াও উজ্জ্বলের সাথে ৪টি মেয়ের নিয়মিত দীর্ঘ ফোনালাপ হতো এবং তাদের সাথে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতো উজ্জ্বল। তবে নিখোঁজের পর থেকে উজ্জ্বলের মোবাইলে ওই ৪টি মেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফারজানা কোনও কল করেননি।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সৈয়দ সাঈদ উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের অনার্স ১ম বর্ষ পড়ুয়া ছাত্র উজ্জ্বল নিখোঁজ হলে গত (২৬ ফেব্রুয়ারী) লাখাই থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন তার পিতা শাহ আলম। এরপর দীর্ঘ ২ মাস ধরে তদন্ত চলাকালে উজ্জ্বলের একাধিক বন্ধু ও বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এসআই আমিনুল ইসলাম। এক পর্যায়ে সোমবার (২২ এপ্রিল) ফারজানা ও তার পিতাকে আটক করলে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গলিত মরদেহটি মেদী বিল থেকে উদ্ধার করা হয়।

ওইদিন রাতেই উজ্জ্বলের পিতা শাহ আলম ফারজানা এবং তার পিতা মঞ্জুরের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ৪-৫ জনকে আসামী করে লাখাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উজ্জ্বলের মরদেহটি হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফয়সাল ইসলাম/হবিগঞ্জ