বানিয়াচংয়ের বিয়ে পাগল মোঃ হান্নান এর ৩ নাম্বার স্ত্রীকে মাসব্যাপী থেমে থেমে পিটুনি ও নির্যাতন করে বর্তমানে লাপাত্তা। সে উপজেলা সদর ঠাকুরাইন দিঘীর পশ্চিম পাড় মহল্লার আব্দুর রব মিয়ার পুত্র।

এদিকে জামালপুর জেলা সদরের রানাগাছা ইউপির শেওরাতলী গ্রামের মোশারফ হোসেনের কন্যা লিমা বেগম (২১) স্বামী ও তার আত্মীয় স্বজনের প্রহারে রক্তাক্ত জখম হয়ে সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মানবেতর জীবন পার করছে। বিজ্ঞ কোর্টে মামলা দায়ের করলেও তদন্ত প্রতিবেদনে বিলম্ব হওয়ায় আরও বিপাকে পড়েছে লিমা। লিমা সুদুর জামালপুর থেকে ভালবেসে কাবিন রেজিস্ট্রি ছাড়াই বিয়ে করে হান্নানকে। পিতা মাতার মতের বিরুদ্ধে বিয়ে করায় তার পিতা-মাতাও লিমার দিকে মুখ ফিরিয়ে থাকাচ্ছেননা। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে অবলা লিমার স্বামী ও স্বামীর আত্মীয় স্বজন সামাজিক বিচারেরও ধারধারী হচ্ছেনা।

এই অবস্থায় লিমার পাশে দাঁড়ানোর কেউ না থাকায় মামলা ও চিকিৎসা এবং নিজের আহার চালানোর কোন উপায় পাচ্ছেনা লিমা।
মামলার বিবরন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দের বছর আগে ফেসবুকের পরিচয়ের ভিত্তিতে লিমার ঢাকার বাসায় যায় হান্নান। সেখানে গিয়ে নিজেকে অবিবাহিত দাবী করে লিমাকে শ্রীমঙ্গল নিয়ে এসে মৌলভীর মাধ্যমে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে সুচতুর হান্নান। বিয়ে করার সময় লিমার নিকট থেকে নগদ দেড় লাখ টাকা আদায় করে বিয়ে পাগল হান্নান।

স্বামীর বাড়িতে এসে বেশ কিছুদিন সুখেই কাটছিল লিমার সংসার জীবন। পরে জানতে পারে হান্নানের আরও ২ টি স্ত্রী আছে। সহজ সরল নারীদের পটিয়ে টাকা আদায় করে বিয়ে করাই স্বভাব হান্নানের। সম্প্রতি লিমাকে পিত্রালয় থেকে আরও ৪ লাখ টাকা এনে দিতে চাপ দেয় হান্নান। লিমা সম্মতি না হলে শুরু হয় তাঁর উপর পাশবিক নির্যাতন। স্বামী হান্নান, দেবর আলেক শাহ, ননদ রোহেনা বেগম, খালা কুটিনা বেগম, মাতা নেহার বেগম মিলে ১ মাস যাবৎ থেমে থেমে মারধর করতে থাকে। গেল সপ্তাহে পিটুনীর মাত্রা বারিয়ে দেয় তারা। পরিবারের সদস্যদের সম্মেলিত প্রহারে রক্তাক্ত জখম হয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারী বানিয়াচং হাসপাতালে ভর্তি হয় সে। এর আগে ১৮ জানুয়ারী ২০২০ তারিখে আহত হয়ে হাসপাতালে প্রথমিক চিকিৎসা নেয় সে।

গত ২৬ জানুয়ারী ২০২০ বিজ্ঞ আদালতে ওই ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করে লিমা। মামলাটির দ্রুত রিপোর্ট করার জন্য ওসি বানিয়াচংকে দিলে থানার এস আই আব্দুস সাত্তার তদন্তভার নেন। এদিকে লিমা হাসপাতাল থেকে ছাড় পাবে আজ ১৩ ফেব্রুয়ারী। কিন্তুু কোথায় যাবে সে ?।

লিমা জানায়, হাসপাতাল থেকে কোথাও আশ্রয়ের স্থান নেই তার। এখন দরকার দ্রুত মামলার তদন্ত রিপোর্ট। রিপোর্ট পেলে ট্রান্সপার করে নিজ এলাকায় মামলাটি নিতে পারলে লিমার জন্য ভালো হবে। মামলা তুলে নিয়ে বানিয়াচং ত্যাগ না করলে লিমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে হান্নানের খালা কুটিনা বেগম তার লোকজন। লিমা আরও জানায় তার স্বামী হান্নানের স্বভাব চরিত্রও ভালনা। হান্নান দ্বিতীয় বিয়ের আগে আপন মামীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়। পরে টাকা পয়সা দিয়ে বিষয়টি রফাদফা করে। লিমার অভিযোগ তার স্বামী হান্নানকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে লুকিয়ে রেখেছে খালা কুটিনা বেগম।

কুটিনা বেগমের প্ররোচনায়ই তাঁর স্বামী পুনরায় যৌতুক দাবী করে। লিমা তার উপর চালানো নির্যাতনের বিচার ও স্বামীর সংসার ফিরে পেতে চায়। কিন্তুু কুটিনা বেগম সহ অন্যান্য কুট বুদ্ধির মানুষের কারনে লিমার সংসারে নেমে এসেছে জঞ্জাল।

এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আব্দুস সাত্তার জানান লিমা স্বামীর সাথে দেড় বছর ঘর সংসার করেছে তা সত্যি। অন্যান্য বিষয়ে তদন্ত শেষ করে যত দ্রুত পারা যায় রিপোর্ট বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করবেন।

-জীবন আহমেদ লিটন, বানিয়াচং