ঢাকার রাস্তার পাশের গাছগুলোর সঠিক রক্ষনাবেক্ষন হওয়া প্রয়োজন। ছবি : সংগৃহীত

গাছকে বলা হয় মহাপ্রাণ। সেই গাছের কারণেই যদি কোনো মৃত্যু ঘটে এর চেয়ে দুঃখজনক কিছু হতে পারে না। গত শনিবার সন্ধ্যার কালবৈশাখীতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তার পাশের গাছ পড়ে বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে রাজধানীর শিশু একাডেমির সামনে গত ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি দুই তরুণীর মৃত্যু হয় রাস্তার উপর গাছ উপড়ে পড়াতে। তবে এমন ঘটনা নতুন কোনো সমস্যা নয়। রাজধানীতে এ রকম দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে চলেছে।

২০১৬ সালে ধানমন্ডিতে রাস্তায় গাছ উপড়ে পড়ায় গাছের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক খালিদ মাহমুদ মিঠু। এ ছাড়াও রাজধানীর রমনা পার্কে ২০১৮ সালের জুন মাসে একটি পুরনো জাম গাছের ডাল ভেঙে পড়লে মৃত্যু হয় ফারুক (৫০) নামে এক ব্যক্তির।


কালবৈশাখীতে উপড়ে পড়া গাছ সড়কে। ছবি : সংগৃহীত

প্রতি বছরই কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে ক্রমশ এবং ঝড়ো বাতাসে রাস্তায় উপড়ে পড়া গাছের জন্য যানজট সৃষ্টির সমস্যা তো আছেই। সেই সঙ্গে আছে গাছের মাধ্যমে বিদ্যুতায়িত হওয়ার আশঙ্কা। তাই, রাজধানীবাসীর এখন আশঙ্কা হয়ে দেখা দিয়েছে গাছ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ মানব জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অক্সিজেন সরবরাহকারী গাছের সংখ্যা এমনিতেই অপ্রতুল রাজধানীতে। তাই, গাছের স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশবিদরা।


ঢাকার সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে মানুষের মৃত্যুর দায় কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। ছবি : সংগৃহীত

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, গাছ লাগানো এবং বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি পুরনো গাছ সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণে ব্যবস্থা নিতে হবে সিটি করপোরেশনকেই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, ‘গাছ কাটার ক্ষেত্রে অনেকেরই আপত্তি রয়েছে। পরিবেশের ক্ষতি হয় বলে অনেকেই গাছ কাটার বিষয়টিতে আপত্তি জানান। এরপরও যেসব গাছ উপড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলো আমরা অপসারণ করছি।’ তবে শহরে কতগুলো ঝুঁকিপূর্ণ গাছ আছে এ তথ্য সিটি করপোরেশনের কাছে নেই বলে জানান তিনি।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘পুরনো গাছগুলো ভেরিফাই করতে হবে। যদি সেগুলোর ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকে তবে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এটা দুইভাবে হতে পারে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সেগুলোকে কোনোভাবে খুঁটি দিয়ে আটকে রাখা যায় কিনা কিংবা সেগুলো কেটে ফেলার দরকার কিনা’।

স্থপতি, নগর ও পরিবেশবিদ ইকবাল হাবিব এ বিষয়ে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘রাস্তার পাশে গাছের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। সিটি করপোরেশন এই দায়িত্ব এড়াতে পারে না। দুর্ঘটনায় গাছ উপড়ে পড়লে সিটি করপোরেশন তা বিক্রির জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠে। তা না করে সমস্ত গাছের রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে কোনো দুর্ঘটনায় এখন সবাই ক্ষতিপূরণ নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু মানুষের প্রাণের কোনো ক্ষতিপূরণ হতে পারে না।’

আজকের পত্রিকা/এমএইচএস