বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন

আজ (১০ ডিসেম্বর) ১৯৭১ এর এ দিনে খুলনার রূপসা নদীতে রণতরী পলাশে যুদ্ধরত অবস্থায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর জঙ্গি বিমানের গোলার আঘাত এবং রাজাকারদের নির্যাতনে শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

এই বীর সন্তানের আজ ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিবিকী। জয়ের ঠিক ৬ দিন আগে অর্থাৎ

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন ১৯৩৫ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৩ সালে রুহুল আমিন জুনিয়র মেকানিক্যাল হিসেবে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের মার্চে রুহুল আমিন চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একদিন সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে তিনি বের হয়ে যান নৌঘাঁটি থেকে। পালিয়ে সীমান্ত পার হয়ে চলে যান ত্রিপুরা এবং যোগ দেন দুই নম্বর সেক্টরে।

মেজর শফিউল্লাহর নেতৃত্বে দুই নম্বর সেক্টরে তিনি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং স্থলযুদ্ধের বিভিন্ন অভিযানে যোগ দেন। পরবর্তীতে ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন নৌবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আগরতলায় একত্রিত হয়ে কলকাতায় আসেন এবং যোগ দেন ১০ নং নৌ সেক্টরে৷

পরবর্তীতে স্থানীয় জনসাধারণ বাগমারা গ্রামে রূপসা নদীর পাড়ে রুহুল আমিনকে দাফন করেন এবং সেখান একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সাতজন বীর সন্তানকে মরণোত্তর বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। রুহুল আমিন সেই সাতজনের অন্যতম।

মরনোত্তর বিভিন্ন সময়ে নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে। তাঁর নামে রো রো ফেরির নামকরণ করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন। তাঁর জন্মস্থান নোয়াখালীর বাগপাদুরা গ্রামের নাম পরিবর্তন করে এখন রাখা হয়েছে আমিননগর৷ বাড়ির সম্মুখে ২০ শতাংশ জমিতে সরকারের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার৷ চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন নামে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে।