পদ্মাসেতু।

২৪ মে শুক্রবার পদ্মাসেতুর ১৩তম স্প্যান বসানো সম্ভব হয়নি। বৈরি আবহাওয়ায় নোঙর করতে না পারায় স্প্যানটি পিলারের কাছাকাছি নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তা বসানো যায়নি। ২৫ মে শনিবার সকালে বসানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সেতুর প্রকৌশলীরা।

১৪ নম্বর স্প্যানটি বসলে সেতুর এক হাজার ৯’শ ৫০ মিটার দৃশ্যমান হবে। মাসের একেবারে শেষ দিকে আরেকটি স্প্যান বসানো হলে দুই কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাবে পদ্মাসেতু।

২৪ মে শুক্রবার সকালে ১৪ ও ১৫ নম্বর পিলারে ঠিক কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয় স্প্যানটি। তবে, নোঙর করতে দেরি করা ও বিকেলের মধ্যে স্প্যানটি পিলারে বসাতে না পারার আশঙ্কায় পরে আর উঠানো হয়নি।

এর আগে ১৪ নম্বর পিলারে লিফটিং হ্যাঙ্গার বসাতে জটিলতা তৈরি হওয়ায় কয়েক দফায় পেছানো হয় স্প্যান বসানোর তারিখ।

এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে স্থায়ী ১০টি ও দু’টি অস্থায়ী স্প্যান বসানোয় মোট ১৮শ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে।

জাজিরা প্রান্তে সেতুর ১৩৫০ মিটার ও মাওয়া প্রান্তের একটি স্থায়ী ও একটি অস্থায়ী স্প্যান মিলে মোট ৩০০ মিটার এবং সেতুর মাঝ বরাবর একটি স্প্যান অস্থায়ীভাবে বসানোয় সেতুর মোট ১৮০০ মিটার আগেই দৃশ্যমান আছে। তবে, স্প্যানগুলো ভিন্ন ভিন্ন পিলারে বসানোর কারণে দৃশ্যমান অংশগুলো এক সারিতে নয় বরং বিচ্ছিন্নভাবে থাকবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং জানায়, তারা মূলত সেতুর পিলার বা খুঁটি গড়ে তোলার কাজকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। এ কারণে এই কাজটি আগে শেষ করা হচ্ছে। স্প্যান বসানো পিলারের চেয়ে সহজ কাজ তাই, আগে পিলার এবং পাইলিং কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন তারা।

সেতুর ২৬২ পাইলের মধ্যে ২৩৬ টি পাইল ড্রাইভিং শেষ করা হয়েছে। বাকি থাকা ২৬ টি পাইল জুলাই মাসের মধ্যে শেষ করতে চাচ্ছেন তারা।

এদিকে, ঈদের আগে সেতুর আরও একটি স্প্যান উঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে সেতু বিভাগের। ১৪তম স্প্যানটি বসলে সেতুর দৈর্ঘ্য দুই কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাবে।

১৪তম স্প্যান বসানোর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০মে। তখন দৃশ্যমান হ‌বে সেতুর ২১শ মিটার অংশ। বা‌কি থাক‌বে আরও ২৭টি স্প্যান বসা‌নো। ৪১ টি স্প্যান ও ৪২টি পিলারে হবে ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

এর আগে গত ৬ মে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের মাঝামাঝি স্থানে ২০ ও ২১ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো হয় ১২তম স্প্যান।

পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, সেতুর অগ্রগতি ৭৬ শতাংশ। আর নদী শাসন কাজের অগ্রগতি ৫৫ ভাগ। সংযোগ সড়কের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। সব মিলিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি এখন ৬৭ শতাংশ।

মূল সেতুর ৪২ টি পিলার বা খুঁটির মধ্যে ২৫ টি পিলারের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে ৬ টি পিলারের কাজ শেষ হবে। আর বাকি ১১ টির কাজ চলমান রয়েছে।

পদ্মা সেতুর মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ২৩ টি স্প্যান ছিল। এর মধ্যে ১২ টি স্পান পিয়ারের উপর বসিয়ে দেয়া হয়েছে। আর বাকি স্প্যানগুলো চীনে নির্মাণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এছাড়া মাওয়া ও জাজিরা ভায়াডাক্ট পাইলিং ও পিয়ারের কাজ শেষ হয়েছে। এখন পিয়ার ক্যাপ ও গার্ডার স্থাপনের কাজ চলছে।

নদী শাসন কাজ মোট ছয় কিলোমিটার নদীর মধ্যে তিন কিলোমিটার শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি ৪ কিলোমিটার শেষ হবে বলে জানিয়েছেন পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।

সেতু বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরের শেষ দিকে শেষ হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু গড়ে তোলার কাজ।

২ বছর আগে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পদ্মাসেতুতে বসানো হয় প্রথম স্প্যান। এর প্রায় চার মাস পর ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি বসে দ্বিতীয় স্প্যান। এর দেড় মাস পর ১১ মার্চ জাজিরা প্রান্তে তৃতীয় স্প্যান বসানো হয়। এর ২ মাস পর ১৩ মে বসে চতুর্থ স্প্যান। এরপর এক মাস ১৬ দিনের মাথায় পঞ্চম স্প্যানটি বসে ২৯ জুন। ৬ মাস ২৫ দিনের মাথায় ২৩শে জানুয়ারি বসে ষষ্ঠ স্প্যানটি।

গত ২০শে ফেব্রুয়ারি ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারে বসে জাজিরাপ্রান্তের সপ্তম স্প্যান। ২২ মার্চ বসে অষ্টম স্প্যান এবং মাওয়াপ্রান্তে গত ১০ এপ্রিল বসে নবম স্প্যান। জাজিরাপ্রান্তে মাত্র ১৩ দিনের ব্যবধানে ২২ এপ্রিল স্থায়ীভাবে বসে দশম স্প্যান। গত ১৭ মে জাজিরা প্রান্তে ভায়াডাক্টে ২০ ও ২১ নম্বর পিয়ারে জে-৩ স্প্যানটি বসানোর কাজ শেষ হয়। এটি ছিল ১২তম স্প্যান। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস