আম। প্রতীকী ছবি

আজ পহেলা জ্যৈষ্ঠ। বাংলা মাসের প্রথম দিনেই বাজারে আসছে রাজশাহীর আম। রাজশাহীর আম মধুর মতো মিষ্টি, আর রসে ভরা। হাতে নিয়ে খেতে গেলে নিস্তার নেই, কনুই ভিজিয়েই খেতে হবে। তাই বছরে একবার খেলেও এমন আমের স্বাদ সব সময়ই রসনাবিলাসীদের জিভে লেগে থাকে। কেবল দেশেই নয়, রাজশাহীর আম যায় বর্হিবিশ্বেও।

এজন্য বছরজুড়েই চলে অপেক্ষা। চলে বিশাল কর্মযজ্ঞ।

এবার মধুমাস শুরুর আগেই আম পরিপক্ক হয়ে গেলেও প্রশাসনের বেধে দেয়া সময় অনুযায়ী ১লা জ্যৈষ্ঠে ঝুড়িতে নামছে ‘রাজশাহীর আম’।

দেশবাসীকে বিষমুক্ত ফল দিতে গেলো তিন বছর ধরে গাছ থেকে আম ভাঙার জন্য সময় বেঁধে দিচ্ছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। তবে তপদাহের কারণে আগে পাকতে শুরু করায় আম পাড়ার সময় কয়েকদিন এগিয়ে নেয়া হয়েছে। গত বছর গুটি ২০ মে, গোপালভোগ ২৫ মে এবং লক্ষ্মা বা লক্ষ্মণভোগ ১ জুলাই থেকে পাড়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু এবার ১৫ মে থেকে গুটি জাতের আম পাড়া শুরু হচ্ছে। এর পর থেকে অন্য জাতের আম যখন পাকতে শুরু করবে তখন পাড়া যাবে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গোপালভোগ ২০মে, রাণীপছন্দ ও লক্ষ্মা বা লক্ষ্মণভোগ ২৫ মে, হিমসাগর বা ক্ষীরসাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ আগামী জুন, আ¤্রপালি, ফজলি ও সুরমা ফজলি ১৬ জুন এবং আশ্বিনা আম পাড়া যাবে আগামী ১ জুলাই থেকে। তবে এবার গুটি, গোপালভোগ এবং লক্ষ্মা বা লক্ষ্মণভোগ- এই তিন জাতের আম পাড়ার সময় গত বছরের চেয়ে পাঁচদিন এগিয়ে আনা হয়েছে। রাজশাহীর নগরীর কাজলা এলাকার আমচাষি ও ব্যবসায়ী কাজিম বলেন, সাধারণত মধুমাস জ্যৈষ্ঠ শুরুর পর রাজশাহীতে ধীরে ধীরে আম পাকতে শুরু করে। কোনো আম আগে পেকে যায় কোনোটা আবার পরে। তাই বিভিন্ন জাত ও নামের আম পর্যায়ক্রমে নামতে থাকে বাজারে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা মেনে নামানোয় গতবছর বাজারে প্রায় এক সঙ্গেই হাজির হয়েছিল সব জাতের আম।

তবে অন্তত এবার তেমনটি হবে না। মধ্য রমজানের পর এক এক করে পর্যায়ক্রমেই বাজারে নামবে বিভিন্ন জাত ও স্বাদের আম। তবে রমজানের কারণে অনেকেই এখন আম ভাঙবেন না। সেই অর্থে বলতে গেলে ঈদের পরপরই পুরোদমে আম ভাঙা শুরু হবে।

আজ ১৫ মে থেকে অনেকেই আগাম জাতের গুটি আম ভাঙতে শুরু করবেন। এরপর থেকে সব বাগানেই কিছু কিছু আম ভাঙা শুরু হবে। আর ঈদের পরপরই পুরোদমে ভাঙা শুরু করবেন আম। প্রথমেই জাত আম খ্যাত গোপালভোগ রাজশাহীর বাজারে আসবে বলেও জানান আমচাষি মিন্টু।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস