এম. মতিন, চট্টগ্রাম : করোনা ভাইরাসের সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে নিলাম বন্ধ থাকার দীর্ঘ ৩ মাস পর ৪ টি মূল্যবান মার্সিডিজ বেঞ্জ, খাদ্য, কাপড়সহ ৩৬৩ কন্টেইনার ভর্তি পণ্যের সব’চে বড় নিলামের ডাক উঠছে আজ।

এটি এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সবচেয়ে বড় নিলাম বলে জানিয়েছেন কাস্টম হাউস কর্মকর্তারা।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকাল ৩ টায় চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

কাস্টম হাউসের নিলাম শাখার ডেপুটি কমিশনার ফরিদ আল মামুন বলেন, ‘করোনা ভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে গত তিন মাস কোন নিলাম হয়নি। আজ (৩০ জুন) যে নিলামটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এটি সবচেয়ে বড় নিলাম।’

তবে করোনাকালে নিলামে ক্রেতাদের কতটুকু সাড়া মিলবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয়ও রয়েছে।

এদিকে সকাল ৯ থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস, চট্টগ্রাম ডিসি অফিস ও শুল্ক আবগারি ও ভ্যাট কমিশনারেটের (ঢাকা দক্ষিণ) অফিসে একটি করে বক্স রাখা হয়েছে। দরদাতারা সকাল ৯টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত নিজেদের ঐচ্ছিক দর দিয়ে ফরম জমা দিতে পারবেন। দুপুর আড়াইটায় উপযুক্ত দরদাতা নির্ধারণ করে তাদের কাছে এসব পণ্য ছাড় এবং হস্তান্তর করবে কাস্টম কর্তৃপক্ষ।

নিলামে কি কি পণ্য বিক্রি হবে জানতে চাইলে ডেপুটি কমিশনার ফরিদ আল মামুন বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে বন্দরে আটকে থাকা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছাড় না নেওয়া ও পুরনো ২২২টি কনটেইনারের সঙ্গে নতুন ১৪১টিসহ মোট ৩৬৩ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি হবে। এরমধ্যে রয়েছে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি, ১৫০ টন পেঁয়াজ, ১৭৪ টন মহিষের গোশত, ২৪ কন্টেইনার আপেল, ৭২৯ টন বিভিন্ন ধরনের পশু খাদ্য, ৪০ কন্টেইনার গার্মেন্টস পণ্য ও ৯ টন মাছ। এছাড়া ৮ কন্টেইনার আর্ট পেপার এবং ২৮ কন্টেইনার বিভিন্ন ধরনের মেশিনারিজ, হার্ডওয়্যার, টেক্সটাইল, সিরামিকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এ নিলামটি আমাদের মনিটরিংয়ে পরিচালনা করছে কেএম কর্পোরেশন।’

কেএম কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক মো. মোর্শেদুল আলম বলেন, ‘নিলামে অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত ৩ টি স্থানে রাখা বক্সে টেন্ডার জমা দিতে পারেন।

এরপর নির্দিষ্ট সময়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের নিলাম শাখা এবং ঢাকা ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ে একযোগে টেন্ডার বক্স খোলা হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামে অংশ নিয়ে অনেকে ঠকে যান। অনেকে নিলাম ডেকেও মাল খালাস নেন না। তাই বুঝেশুনে লটের নিলাম ডাকতে হবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকা আমদানি কনটেইনার বন্দরের জন্য এক ধরনের বোঝা। এগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় নিলামে তুলতে কাস্টম হাউসকে প্রতি মাসেই চিঠি দেয়া হয়। তারা নিলামের আয়োজন করে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের নিলামও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নিলাম শেষে প্রাপ্ত দরপত্রের উপযুক্ত দরদাতা নির্ধারণ করা হবে।’

প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ৩ মাস ধরে কাস্টমের নিলাম বন্ধ ছিলো। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময় আটক এবং আমদানি করে ছাড় না নেওয়া নিলামযোগ্য ৮ হাজার ৪১৩ টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের) কনটেইনারসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য বন্দর ইয়ার্ডে জমে আছে। এতে বন্দরের বড় একটা অংশ এগুলোর দখল থাকায় বন্দরে স্থান সংকট দেখা দেয়। ফলে বন্দরের স্বাভাবিক পণ্য হ্যান্ডলিং করা ব্যাহত হয়। তাই দীর্ঘদিন খালাস না নেয়া ৩৬৩ কন্টেইনার ভর্তি আমদানি পণ্য আজ ৩০ জুন নিলামে তোলে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গত বুধবার (২৪ জুন) থেকে শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত নিলামে পণ্য কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য নিলামযোগ্য এসব পণ্যের উন্মুক্ত প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে।

এটি এবছরের পঞ্চম ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিলাম।

  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    10
    Shares