মিজানুর রহমান আযহারীর মাহফিলে হিন্দু থেকে মুসলমান হওয়া সকল নাগরিককে ভারতে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

এসময় তাদের কাছ থেকে ১২টি পাসপোর্ট ও ১২টি জন্মনিবন্ধন কার্ড উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১টি জন্মসনদ রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ও বাকী ১১টি কেরানীগঞ্জ উপজেলার।

সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে (২৪ জানুয়ারী) রামগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ হাজিপুর পাটোয়ারী বাড়ীর তাফসিরুল কোরআর মাহফিলে আদালতের হলপনামা অনুযায়ী শংকর অধিকারী ওরফে মনির হোসেন ও তার পরিবারের ১১ সদস্যকে বিশিষ্ট ওয়াজেন আমির হামজা ও মিজানুর রহমান আযহারীর উপস্থিতিতে শাহাদা পাঠ করিয়ে মুসলিম ধর্মে দীক্ষিত করা হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফাতেমা মেম্বারের ছেলে মনির হোসেন (শংকর অধিকারী) বর্তমান বয়স ৪৭। যখন তার বয়স ১২ বছর, তখন বাবা মায়ের সাথে রাগ করে চলে যায় বাড়ী ছেড়ে ঢাকায়। সেখান থেকে সীমান্ত পার হয়ে চলে যান ভারতে।

মাধূরী পালৈর নামের একজন হিন্দু মহিলা মনির হোসেনকে রাস্তায় পেয়ে নিয়ে যান নিজ বাড়ী মেদেনীপুর। হিন্দু ধর্ম গ্রহন করেন মনির হোসেন। সে দেশের জাতীয়তা, রেশনকার্ডসহ হয়ে যান ভারতীয় নাগরিক। বিয়ে দেন মাধূরী পালৈর মেয়ে রেখা অধিকারীর সাথে। সেখানে জন্ম নেয় মেয়ের। ছেলে সন্তানের আশায় রেখা অধিকারীর জেঠাতো বোন সুজাতা অধিকারিকে করেন ২য় বিয়ে। সে পরিবারে জন্ম নেয় ২ ছেলে ২ মেয়ে।

জন্মসূত্রে সবাই ভারতীয় নাগরিক ও হিন্দু ধর্মালম্বী।

দীর্ঘদিন ভারতে থাকার পর বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে প্রায় ৩৫ বছর পর ২০১৯ইং সনের ১৪ আগষ্টের শেষ সপ্তাহে ফিরে আসেন বাংলাদেশে। দুই মাসের ভিসা নিয়ে।

এসেই মা ফাতেমা আক্তার ও ভাইসহ আত্মীয়স্বজনের তোপের মুখে পড়েন শংকর অধিকারী ও তার পরিবার।

মা ফাতেমা আক্তারসহ তাদের পুরো পরিবারকে মুসলমান হয়ে সংসার ফিরতে বলেন। বাধ্য হয়ে পাশ্ববর্তি চন্ডিপুর ইউনিয়নের চাঙ্গিরগাঁও জনৈক আয়াত উল্যাহর বাসা ভাড়া নিয়ে অটো রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন শংকর ও তার পরিবারের লোকজন। বাংলাদেশে আসার পর শংকর অধিকারী (মনির হোসেন) তারা স্ব পরিবারে মুসলিম ধর্ম গ্রহন করতে চাইলে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে সহযোগীতা করেন।

সর্বশেষ গত ২৪ জানুয়ারী ২০২০ইং শুক্রবার রাতে মাওলানা আমির হামজা ও মিজানুর রহমান আযহারীর উপস্থিতিতে শংকর অধিকারী ও তার পরিবারের ১১ সদস্যকে শাহাদা পাঠ করিয়ে মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত করা হয়। বিষয়টি পুরো রামগঞ্জে তোলপাড় শুরু হলে রামগঞ্জ থানা পুলিশ উক্ত পরিবারের ১১ সদস্যকে নিয়ে আসে থানা হেফাজতে।

মনির হোসেন ওরফে শংকর অধিকারীর মা ইউপি সদস্য ফাতেমা বেগম জানান, আমার ছেলে ভারতে গিয়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহন করে। আমরা ২০/২৫ বছর পর ঘটনাটি জানতে পেরে ছেলের উপর অসন্তুষ্ট হই। তাকে বলে দেই তুই যদি মুসলমান হয়ে আসতে পারিস তাহলে আমাদের সাথে সর্ম্পক থাকবে। বাড়ীতে আসার পরও দেখি সে আগের মতো রয়ে গেছে, তাই আমরা তাকে বাড়ীতে উঠতে দেইনি। পরে হুজুরের মাহফিলে আমার ছেলে তার পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে মুসলমান হয়েছে।

মাহফিল এন্তেজামিয়া কমিটির পক্ষে মাওলানা জামশেদ আল মাক্কী জানান, তাদের সবার জন্মনিবন্ধন কার্ড দেখে উকিলের মাধ্যমে কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে তাদের সবাইকে কালেমা পাঠ করিয়ে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়।

রামগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, রামগঞ্জ থানা থেকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া ওই ১১ জনকে ডিএসবিতে প্রেরণ করা হয়েছে। সেখান থেকে তাদের ১ নাতনী সহ মোট ১২জনের ভারতের নাগরিকত্ব থাকায় ভারতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান জানান, মনির হোসেন নামে যিনি ধর্মান্তরিত হয়েছেন তার কাছে আমরা ভারতীয় পাসপোর্ট পেয়েছি, যাতে তার নাম শংকর অধিকারী। তার সাথে অন্য যারা আছেন তাদের কয়েকজনেরও ভারতীয় পাসপোর্ট আছে। তারা গত বছরের ১৪ আগস্ট ২ মাসের ভিসা নিয়ে বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তারা বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, বর্তমানে তাদেরকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদেরকে যশোরের বেনাপোল হয়ে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

-মোঃ সোহেল রানা