পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকে লাঞ্ছিত করেন লিংক রোডের চেক পোস্টে কর্তব্যরত মাসুম এএসআই। ছবি : আজকের পত্রিকা

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ‘আজকের পত্রিকা’র ক্রাইম রিপোর্টার কাজী ফয়সালকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে গুলশান থানা পুলিশ। ২৪ মার্চ রবিবার গুলশান-১ থেকে বাড্ডার দিকে যেতে গুদারাঘাট সংলগ্ন লিংক রোডের চেক পোস্টে এ লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিক কাজী ফয়সালকে হেনস্থা করেন পুলিশ সদস্য এএসআই মাসুম ও কনস্টেবল মমিন। সে সময় সাংবাদিক কাজী ফয়সাল ঐ চেকপোস্টে মোটরসাইকেল তল্লাশির সময়কালীন ছবি তুললে সেগুলো ডিলিট করাতে বাধ্য করে পুলিশ। অন্যথায় তাকে আটক করারও হুমকি দেন ঘটনাস্থলে দায়িত্বপালনকারী অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য।

সাংবাদিকদের  লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক মহল। বিভিন্ন প্রত্রিকা এ ঘটনার প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। তাবে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।

ঘটনার সময় নিজেকে এসআই বলে পরিচয় দিলেও গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক নিশ্চিত করেছেন গুদারাঘাট সংলগ্ন লিংক রোডের চেক পোস্টে কর্তব্যরত মাসুম এএসআই। এএসআই মাসুম গণধোলাই দিয়ে আটক করে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাদের চেকপোস্টে আমরা তল্লাশি করি, কি করি, না করি এটি আমাদের বিষয়। আপনি অনুমতি ছাড়া ছবি তুলতে পারেন না। আপনি দাঁড়ান আপনাকে আটক করব।’

অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, সে ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক (জিডি) করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে রিপোর্ট তৈরি করবো।

আপনারা তদন্ত শুরু করেছেন নাকি শুরু করবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রশাসনিক (জিডি) তদন্তে নোট দিয়েছি।’

ভুক্তভোগী আজকের পত্রিকার সাংবাদিক কাজী ফয়সাল সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, আমি এখনো শঙ্কিত, ওই পুলিশ সদস্যরা আমাকে আটক করার হুমকি দিয়েছে। মামলায় ফাঁসানের হুমকি দিয়েছে। অথচ, এই বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট মহল থেকে আনুষ্ঠানিক কিছুই বলা হয়নি। আমার নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে। এর মধ্যেই আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে আবারো মাঠে নেমে পড়েছি। আমি একজন সাংবাদিক, তবে এর চেয়ে বড় পরিচয়- আমি এই বাংলাদেশের একজন নাগরিক। সংবিধানে রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলা থাকলেও আমি এখনো জানি না আমার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে কে? ওই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যখন হুমকি দেয়, আর কে আছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার?

এছাড়া বিষয়টি নিজেই দেখে তদন্ত রিপোর্ট দেবেন বলে জানান, গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক। তিনি জানান, গুলশান জোনের ডিসি মোশতাক আহমেদ স্যার ফোন করেছিল। তার সাথে এ বিষয়ে কথা হয়েছে।’ কবে নাগাদ তদন্ত রিপোর্ট দেবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্ট দিতে দু-এক দিন সময় লাগবে।’

আজকের পত্রিকা/আ.স্ব/জেবি