এম. এ. আর. শায়েল
সিনিয়র সাব এডিটর

বিয়ে বাড়িতে এখন আর হাসি নেই, কেবলই কান্নার রোল।

মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কের দ্বি-তল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে হবিগঞ্জের মা-মেয়েসহ ৫ জন নিহত হন সেখানে বিয়ের আনন্দ, আগত অতিথিদের হই-হুল্লোড় ছিল। কিন্তু বিভীষিকাময় আগুন কেড়ে নিলো সকল উচ্ছ্বাস, উপহার দিলো ৫টি দগ্ধ মৃতদেহ।

আগুন লাগা মৌলভীবাজারের এই দোতলা ভবনের নিচে ছিলো দোকান ও ওপরে পরিবার নিয়ে থাকতেন সুভাষ রায়। গত বুধবার অনুষ্ঠিত হয় সুভাষ রায়ের মেয়ে পিংকির বিয়ে।

গত সোমবার ছিলো বৌভাত অনুষ্ঠান। বিয়ে উপলক্ষে স্বজনরা তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্তই সুভাষ রায়ের বাসা ছিলো অতিথিদের কল-কাকলিতে মুখর। কিন্তু সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গ্যাসের লাইন থেকে আগুন বদলে দিলো সুভাষ রায়ের বাসার দৃশ্যপট।

মুহুর্তেই বিয়ে বাড়ির আনন্দ রূপ নিল বিষাদে। এখন সেখানে চলছে কেবলই কান্নার রোল। মৌলভীবাজার পৌরশহরের সাইফুর রহমান সড়কের একটি দোতালা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভবনের নিচ তলার জুতার দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। নিহতরা হচ্ছেন- সুভাষ রায় (৬০), সুভাষ রায়ের মেয়ে পিয়া রায় (১৪), প্রণয় রায়ের স্ত্রী দিপ্তী রায় (৪৫), হবিগঞ্জ শহরের উমেদনগর মন্দিরহাটির সজল রায়ের স্ত্রী দীপা রায় ও সজল রায়ের আড়াই বছর বয়সি কন্যাশিশু বৈশাখী রায়। সজল রায় তার ভাগ্নির বিয়েতে পরিবার নিয়ে গিয়েছিলেন।

এই পাঁজনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৌলভীবাজার সদর থানা ও মৌলভীবাজার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে শ্রীমঙ্গলের আরও তিনটি ইউনিট সেখানে যোগ দেয়। দুপুর ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের সাইফুর রহমান রোডের পিংকি সু স্টোরে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এ সময় দোকানের ওপরের বাসায় সবাই আটকা পড়ে। আটকা পড়াদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস। তারা একই পরিবারের।

এর মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।