আগুনে পুড়ে গেলো অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির শেষ আশ্রয়স্থল

শহরের ঝিটুলীতে রাতের আধারে পেট্রোল ঢেলে হতদরিদ্র এক বৃদ্ধ দম্পতিকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগুনে পুড়ে গেছে ওই অসহায় পরিবারের সর্বস্ব। শেষ আশ্রয়স্থল হারিয়ে বর্তমানে অসহায় ওই দম্পতি সামনের একটি বাড়ির খোলা লনে আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছেন।

হৃদয়বিদাড়ক এ ঘটনাটি ঘটেছে শহরের ঝিলটুলী মহল্লার আব্দুল করিম মিয়া সড়কে। ওই সড়কে অবস্থিত সাবেক আইনজীবী মরহুম আব্দুর রাজ্জাকের একটি টিনের ঘর রয়েছে। সেখানে তাদের কেউ থাকেননা।

জরাজীর্ণ ওই টিনের ঘরেই বসবাস করতেন শহরের প্রবীণ রিক্সাচালক আব্দুল মজিদ শেখ (৭৭) ও তার স্ত্রী ওসিরননেসা বিবি (৭২)। নিঃসন্তান এই দম্পতির উপার্জনের অক্ষম হওয়ায় পরিচিতজনদের সাহায্য সহযোগীতায় চলতো তাদের জীবনজীবিকা।

ওসিরননেসা বিবি জানান, সোমবার রাত দুইটার দিকে হঠাৎ তার ঘুম ভেঙে যায়। এসময় ফিসফিস আওয়াজ পান কারো। ‘একজন কয়, এই ঘরের মধ্যেই আছে। তোরা ঢুইক্যা গলা কাইট্যা ফেলাবি। তহন আরেকজন কয়, গলা কাটতে গেলে চিল্ল্যাবেনে। তারচেয়ে পুড়ায় মারি।’

তিনি বলেন, ‘এই কথা শুইন্যা ভয়ে আমার পরান চইম্কে উঠে। কিছুক্ষণ বাদে ঘরের চাইরপাশে হাটার আওয়াজ পাই। তারপরই পেট্রোলের গন্ধ। ঘরের পোষা বিলাই তহন ঝপাৎ কইর‌্যা আমার গায়ে আছড়ায় পরে। তারপর দরজা দিয়ে বাইর হইয়্যা যায়। আমরাও ওর সাথে ঘর থিকা বাইর‌্যায় আসি। এরপরই আগুনে সব পুইড়্যা যায়।’ প্রবীণ রিক্সাচালক মজিদ শেখ (৭৭) বলেন, ‘ওই জমিতে মার্কেট করার জন্য শত্রুরা ঘরে এই আগুন দিছে। আমাগো মারতে পারে নাই তয় বিলাই দুইড্যা পুইড়্যা মরলো।

ফরিদপুরের ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন ম্যানেজার নুরুল আলম দুলাল জানান, রাত দুইটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর খবর পেয়ে দমকল বাহিনী যেয়ে পৌনে তিনটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন ওই টিনের ঘরে কিকারণে আগুনের সূত্রপাত সেটি তদন্ত সাপেক্ষে বলা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে, মরহুম অ্যাডভোকেট মৌলভী আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মোহাম্মদ জামান জানান, তারা এ ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ করেননি। কোতয়ালী থানার ওসি এফএম নাসিম জানান, কোন অভিযোগ পাইনি থানায়। কেউ অভিযোগ করলে খতিয়ে দেখবো।

ইয়াকুব আলী তুহিন/ফরিদপুর