আওয়ামী লীগ ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সমঝোতা স্মারক সই। ছবি : বাসস

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ২১ মার্চ বৃহস্পতিবার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সফররত সিপিসি’র আন্তর্জাতিক বিভাগ সংক্রান্ত মন্ত্রী সং তাও এবং প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বৈঠকের পরে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। বাংলা, চাইনিজ ও ইংরেজি ভাষায় স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর স্পীচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ এবং সং তাও নিজ নিজ দলের পক্ষে এই স্মারকে সই করেন। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে নিরাপদ এবং স্থায়ী প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।’

আওয়ামী লীগ ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টির নেতা উভয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘আগামী দিনগুলোতে দুই বন্ধু ভাবাপন্ন দেশ এবং দুটি দলের মধ্যে সম্পর্ক এবং সহযোগিতা আরো শক্তিশালী হবে।’

সং তাও উল্লেখ করেন, ‘তার দল এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একই ধরনের মতাদর্শে বিশ্বাসী।’ তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের তাদের নিজেদের দেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এর উত্তরে সং তাও তাঁর দেশের সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফেরত নেয়ার জন্য চীন এ ব্যাপারে কাজ করছে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে।

সমঝোতা স্মারক  বলা হয়, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, সমঅধিকার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ের হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে দুই  বন্ধুপ্রতীম দল পারস্পরিক বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দলীয় সম্পর্ক এবং ‘চীন-বাংলাদেশ কৌশলগত সহায়তা ও অংশীদারিত্ব’ আরও জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করবে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এ সমঝোতার আওতায় চুক্তিপত্রে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো আগামী ৫ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

সিপিসি’র আন্তর্জাতিক বিভাগ সংক্রান্ত মন্ত্রী সং তাও এবং প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বৈঠক। ছবি : বাসস

দুই সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আলোচনা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে যোগাযোগ ও সহায়তা জোরদার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও দুই দেশের এই দুই সংগঠনের যুব ও মহিলা শাখার মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে স্বাক্ষর করেন দলটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মন্ত্রী সং তাও এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ।

স্মারক স্বাক্ষরের সময় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আজকের পত্রিকা/আ.স্ব/