মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

আইইইই বাংলাদেশ সেকশন এবং ওমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাফিনিটি গ্রুপ লোগো। ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রকৌশলী সমাজের সার্বিক বিকাশ ও সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে আইইইই বাংলাদেশ সেকশন (IEEE BDS) এবং ওমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাফিনিটি গ্রুপ (WIE AG) বিভিন্ন ধরণের বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করে এসেছে এবং এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রাদেশিক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি বয়ে এনেছে। আমরা খুব আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে আইইইই বাংলাদেশ সেকশন “আইইইই মেম্বার ও জিওগ্রাফিক অ্যাক্টিভিটিস বোর্ড ২০১৮ আউটস্ট্যান্ডিং লার্জ সেকশন অ্যাওয়ার্ড’ এ ভূষিত হয়েছে যা এই আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সম্মান। এটি আমাদের ও একই সাথে আমাদের দেশের জন্যও অনেক বড় একটি অর্জন।

আইইইই বাংলাদেশ সেকশন এবং ওমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাফিনিটি গ্রুপ বিভিন্ন ধরণের গবেষণা, শিক্ষা, পেশাগত ও মানবিক প্রযুক্তিভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থী, তরুণ, গবেষক ও সকল পর্যায়ের প্রকৌশলী সদস্যদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করে চলেছে। আইইইই বাংলাদেশ সেকশনের অঙ্গসংস্থা ওমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সমাজের নারী প্রকৌশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উৎসাহিত করতে পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি, রোবটিকস অ্যান্ড অটোমেশন, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যাল প্রসেসিং সহ তড়িৎ প্রকৌশলের বহুমুখি বিষয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি, প্রতিযোগিতা ও সম্মেলনের আয়োজন করেছে। ওমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাফিনিটি গ্রুপের এই অবদান আন্তর্জাতিক মহলেও ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং এর স্বাক্ষরস্বরূপ ২০১৭ সালে এই গ্রুপ অর্জন করে বিশ্বের সেরা আইইইই ওমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যাফিনিটি গ্রুপের সম্মান। এর মধ্যে দুটি এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় বর্তমান চেয়ার প্রফেসর ড. সিলিয়া শাহনাজকে ও চতুর্থটি জিতে নেয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়।

অসাধারন কর্মধারা ও সাফল্যের সংস্কৃতি:
আইইইই বাংলাদেশ সেকশন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্বনামধন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। গত বছর এই সংস্থাটির অঙ্গসংস্থান ওমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এর সবচেয়ে চমক করা আয়োজন ছিল “ওমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টারন্যাশনাল লিডারশিপ সামিট”। এই সামিটে অংশ নিয়েছেন আমেরিকা, কানাডা, মালেয়শিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের ৫৫ জন বক্তাসহ প্রায় ৩০০ গুণীজন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। প্রযুক্তির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাসহ এর সুষ্ঠু বাণিজ্যিকিকরণ, সাহসী উদ্যোক্তা ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা – এই সামিটের মূল প্রতিপাদ্য ছিল। ২০১৮ সালে আইইইই বাংলাদেশ সেকশন ১২০টি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে এবং ওমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাফিনিটি গ্রুপ আয়োজন করেছে ২০টি। এভাবেই ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়ার মেলবন্ধনের মাধ্যমে গবেষণা ও উদ্ভাবনায় বিজ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করতে এবং আইইইই’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আইইইই বাংলাদেশ সেকশন ও ওমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাফিনিটি গ্রুপ যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মিশন:
দেশের সকল কোণে আইইইই এর কার্যক্রমগুলি ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানবিক সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসাই আইইই বাংলাদেশ সেকশনের মিশন। আর ওমেন ইন ইন্নজিনিয়ারিং অ্যাফিনিটি গ্রুপের মাধ্যমে সেকশনের মিশন হচ্ছে নারীদের প্রকৌশল ও বিজ্ঞানে ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বাধুনিক আবিষ্কার ও তথ্যের ব্যাপারে সচেতন রাখা এবং এক্ষেত্রে অবদান রাখতে উতসাহিত করা। এ লক্ষ্য নিয়ে এবং মানবতার সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহারের অকৃতিম আগ্রহে আইইইই বাংলাদেশ সেকশন এবং এর ওমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যাফিনিটি গ্রুপ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আজকের পত্রিকা/এমইউ