লোকশিল্পী অমল পাল। ছবি: সংগৃহীত

বাদ প্রতিম সঙ্গীতশিল্পী অমর পাল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২১ এপ্রিল শনিবার বিকেলে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

লোকগানের এই শিল্পীকে শেষ বিদায় জানালেন তাঁর অসংখ্য ছাত্রছাত্রী আর শিল্পীরা। ২২ রোববার সকালে তাঁর মরদেহ ‘পিস ওয়ার্ল্ড’ থেকে দক্ষিণ কলকাতার বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক দেহ রাখা হয়। তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন আত্মীয়স্বজন আর অগণিত ছাত্রছাত্রী। আরও এসেছিলেন সিপিএমের পলিটব্যুরোর চেয়ারম্যান বিমান বসু, চিত্রশিল্পী সমীর আইচ। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় রবীন্দ্র সদনে। সেখানে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। সেখানে শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন সংগীতশিল্পী হৈমন্তী শুক্লা, পূর্ণদাস বাউল, শিবাজি সৈকত মিত্র, তীর্থসহ অনেকে। দুপুরে রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে অমর পালের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

লোকসঙ্গীতে দুই বাংলাতেই জনপ্রিয় ছিলেন অমর পাল। সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ ছবিতে ‘কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়’ গানটি আজও চিরস্মরণীয় করে রেখেছে শিল্পীকে।

১৯২২ সালের ১৯ মে মাসে অবিভক্ত বাংলার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লোকশিল্পী অমর পালের জন্ম হয়। অল্পবয়সে বাবাকে হারালেও মায়ের কাছেই তার সঙ্গীতের হাতেখড়ি। পরে সঙ্গীতগুরু আয়াত আলি খানের কাছে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিক্ষা নেন। দেশ ভাগের পর ১৯৪৮ সালে অমর পালকে কলকাতায় চলে আসতে হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, তিতাসের পাড় ছেড়ে এলেও তিনি সেখানকার মেঠো সুর ভোলেননি। ওপার বাংলা গিয়ে তিনি সুরেন চক্রবর্তী, মণি চক্রবর্তী ও ননীগোপাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিখ্যাত লোকসঙ্গীত শিল্পীর কাছে শিক্ষালাভ করেন। নিজে বহু লোকসঙ্গীত রচনা করলেও বাউল, টুসু, মনসা থেকে ভাটিয়ালির কথা ও সুরকে ভোলেননি অমর পাল।

আজকের পত্রিকা/এসএ