রবিউল ইসলাম শিবলু। গ্রাফিক্স : আজকের পত্রিকা

মোস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার ও রবিউল ইসলাম শিবলু তিন জনই সাতক্ষীরার থেকে উঠে আসা জাতীয় দলের ক্রিকেটার। মোস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার নাম দুইটি আপনার পরিচিত হলেও হয়তো রবিউল ইসলাম শিবলুকে চিনতে আপনার কষ্ট হচ্ছে। হওয়ারই কথা। অনেক দিন জাতীয় দলের ত্রিসীমানায় নেই রবিউল।

অথচ এই রবিউলই একটা সময় বাংলাদেশ দলে খেলেছেন দাপটের সঙ্গে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ৯ টেস্টে ৩৯.৬৮ গড়ে ও ৩.২০ ইকোনমি রেটে নিয়েছেন ২৫ উইকেট। পাঁচ উইকেট নিয়েছেন দুবার। ইনিংস সেরা বোলিং ৭১ রানে ৬ উইকেট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

টেস্ট দলে রবিউল ইসলাম শিবলু। ছবি : সংগৃহীত

এ ছাড়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭৭ ম্যাচে ৩০.৭৮ গড়ে ও ৩.৪ ইকোনমি রেটে নিয়েছেন ২২৪ উইকেট। পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ৯ বার। ম্যাচে দশ উইকেট একবার। ইনিংস সেরা বোলিং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই ৭১ রানে ৬ উইকেট। এ ছাড়া ৩৮ লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ৪০টি ও ৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছেন।

এত পরিসংখ্যানের বাইরের খবর পরপর দুই বছর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ডাকই পাননি এই ক্রিকেট। ১৮ ফ্রেব্রুয়ারি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের প্লেয়ার্স ড্রাফটেও দল পাননি ৩২ বছর বয়সি এই ডানহাতি পেসার। ৪ বছর আগে চোটে পড়ে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে আর দলে ফেরা হয়নি। চোট সারলেও সে সময়কার কোচ হাথুরুসিংহে দলে যোগ্যই মনে করেনি রবিউলকে। এ ছাড়া আগামী মাসের শুরুতে হতে যাওয়া জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে (আন্তঃজেলা ক্রিকেট) নিজ জেলা সাতক্ষীরার ৩৪ জনের প্রাথমিক স্কোয়াডেও জায়গা হয়নি এই ক্রিকেটারের। এসব কারণে এক প্রকার অভিমানে ক্রিকেটাই ছেড়ে দিলেন রবিউল ইসলাম শিবলু। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আজকের পত্রিকা’কে এই খবরও নিশ্চিত করেছেন এই অভিনামী ক্রিকেটার।

রবিউল ইসলাম শিবলু। ছবি : সংগৃহীত

আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করলাম কিন্তু ফিরতে পারলাম না। এত কিছুর পর আর মাঠ নামার ইচ্ছে নেই।’

অবসরে কী করবেন এমন প্রশ্নে বলেন, ‘সাতক্ষীরাতে একটা রেস্টুরেন্ট দিয়েছি। এ ছাড়া ভাবছি কোচিংয়ে যোগ দেবো সাতক্ষীরার কোনো এক ক্লাবে।’

আজকের পত্রিকা/এমআরএস/জেবি