নওগাঁর মান্দায় ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তিতে অবস্থিত বিলের মালিকদের বঞ্চিত করে প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক মাছ ছেড়ে দিয়ে এককভাবে ভোগ দখল করে যাচ্ছে।

এতে করে ওই সম্পত্তির প্রকৃত মালিকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এর ফলে যে কোন সময় সেখানে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশংকা দেখা দিয়েছে।

এঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর মান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স.ম জসিম উদ্দিন বিষয়টি সরেজমিন তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য মান্দা উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মেহেদী হাসানকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

সে মোতাবেক তিনি সরেজমিন তদন্তও করেন। কিন্তু এর আগে বিষয়টি নিয়ে মান্দা উপজেলা পরিষদে সমঝতার জন্য ডাকা হয় এবং ওইসময় উভয়পক্ষ স্বাক্ষরিত একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গৃহীত সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ওই দুই বিলের মাছ লুট করে নিয়ে যায় বলে বিলের প্রকৃত মালিকরা জানান।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার জের ধরে গত প্রায় দু’মাস আগে এক ব্যক্তি ওই বিবাদমান বিলে মাছ ধরতে গিয়ে প্রভাবশালীদের হাতে খুন হয়েছে বলে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেছেন।

মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের রাঙামাটিয়া এবং পাটগাড়ি নামক দুটি পৃথক বিলে এই ঘটনা ঘটেছে। রাঙামাটিয়া মৌজার আলহাজ্ব তছির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মান্নান, মৃত রিয়াজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে মমতাজ হোসেন এবং মৃত মোহর সরদারের ছেলে বয়েন উদ্দিন সরদার এবং কৈবত্যপাড়া গ্রামের মৃত তফির উদ্দিন সরদারের ছেলে আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদসহ প্রায় দেড়’শ ব্যক্তি এ ব্যপারে মান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে ওই বিলের প্রকৃত সম্পত্তির মালিক যারা তারা যেন সবাই সমভাবে ভোগদখল করতে পারেন এবং পূনরায় যাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন অপ্রতিকর ঘটনা বা খুনের মত ঘটনা না ঘটতে পারে; সেই জন্য আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের একটি অনুলিপি জেলা মৎস্য অফিসার বরাবর দেয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে রাঙামাটিয়া মৌজায় প্রায় শতাধিক ব্যক্তির মালিকানায় ১০০ বিঘা এবং পাশেই পাটগাড়ি মৌজায় ৫০/৬০ বিঘা জমির জলাশয় রয়েছে।

এই বিলে কৈবর্ত্যপাড়া গ্রামের ময়নুল ইসলামের ছেলে আব্দুল মতিন ও আসাদুজ্জামান নুর, লুৎফর রহমানের ছেলে বজলুর রশিদ, মৃত কছির উদ্দিনের ছেলে মাজেদ আলী, আতোয়ার হোসেনের ছেলে আব্দুল মান্নান, রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম এবং কাঁশোপাড়া গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে বাবু হাজী সম্পত্তির মালিকদের মতামত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক মাছ চাষ করে অসছে। অথচ, বিলের প্রকৃত মালিকদের প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

তারা ঐ গ্রামের প্রকৃত জমির মালিকদের বিলে মাছ ধরতে দেয়না। এমনকি মাছ চাষের কোন লভ্যাংশ পর্যন্ত তাদের দেয়া হয় না। এই বিলে এলাকার দরিদ্র জনসাধার মাছ ধরে তাদের প্রাত্যহিক আমিষের চাহিদা মিটিয়ে থাকতেন এবং মাছ বিক্রয়ের টাকা দিয়ে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার যোগান দিতেন। কিন্তু এই প্রভাবশালীরা মাছ ছেড়ে দিয়ে তা সম্পূর্নভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

এর ফলে বিলের প্রকৃত মালিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও তারা জোরপূর্বক মাছ চাষ করে অনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। এ ব্যপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ পূর্বক বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

-মাহবুবুজ্জামান সেতু