মরদেহ। প্রতীকী ছবি

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সিমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত বাবুল মিয়ার (২৪) লাশ ১৫দিন পর ফেরত দিল বিএসএফ।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্তে বিজিবির উপস্থিতিতে নীলফামারী ডিমলা থানার পুলিশের কাছে নিহতের লাশ হস্তান্তর করা হয়।

পরে পুলিশ বাবুল মিয়ার লাশ তার বাবা নূর মোহাম্মদের কাছে বুঝিয়ে দেয়। সেখান থেকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ গ্রামের বাড়ীতে তার মরদেহ নিয়ে আসেন বাবা নূর মোহাম্মদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ৫১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল ইসাহাক মন্ডল, ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ, পুর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান, কালিগঞ্জ গ্রামের ইউপি সদস্য মো. জাকিরুল ইসলাম ও দহগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক আবু হানিফ।

অপরদিকে, ভারতীয় ৫৪ বিএসএফের উপ-অধিনায়ক এসওয়াই খেঙ্গাঁরু, কোচ বিহার জেলার কুচলিবাড়ী থানার সার্কেল পরান রায় ও থানা পুলিশের (ওসি) কর্মকর্তা সুবাস চন্দ্র রায়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার কালীগঞ্জ গরুর বিট-খাটাল সংলগ্ন সীমান্তে ভারতীয় গরু পারাপারের সময় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ডিমলার দুইজন হতাহতের ঘটনা ঘটে। তাদের মধ্যে নিহত বাবুল মিয়া (২৪) উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে।

একই ঘটনায় আহত সাইদুল ইসলাম (১৪) উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামের গোলজার রহমানের ছেলে। ঘটনার পর হতাহতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় বিএসএফ।

এ ঘটনায় নিহতের লাশ ও আহত সাইফুলকে ফেরত পেতে তাদের স্বজনেরা বিজিবি সহ বিভিন্ন মহলের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সহযোগীতা না পেয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহারের মাধ্যমে বর্ডার গার্ড ৫১ বিজিবির কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছেও লিখিত আবেদন করেও তা ফলপ্রসু হয়নি।

এদিকে, বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) নিহতের লাশ ফেরতের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। এলাকাবাসীর দাবির মুখে বাবুলের লাশ ফেরত পেলেও একই ঘটনায় আহত সাইফুলকে এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। সাইফুলকে ফিরে পেতে বিজিবির নিকট অনুরোধ জানান আহত সাইফুলের পিতা গোলজার রহমান।

ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন/নীলফামারী