অবশেষে না ফেরার দেশে চলেই গেলেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী অহেজা

অবশেষে মারা গেলেন সেই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী অহেজা বেগম (৬০)।

গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে রংপুর বেসরকারি ডক্টরস ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ভোর রাতেই নিহতের লাশ তার নিজ বাড়িতে এসে পৌছিলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

পরে দুপুরের দিকে তার নিজ বাড়ির কবর স্থানে দাফন করা হয়। এদিকে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করা হচ্চে না মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী অহেজা শিরোণামে বিভিন্ন পত্রিকায় ৮ ও ৯ ডিসেম্বর সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোন সাড়া মেলেনি।

৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালের দিকে নিজ বাড়িতে তিনি ব্রেনস্ট্রোক রোগে আক্রান্ত হন। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে রৌমারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎক তাকে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তার মেয়ে প্রতিবন্ধী নার্গিস আকতার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস অসুস্থ’ আমার মা অহেজা

বেগমের প্রতি কেউ সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেনি। তাই অনেক ধার-দেনা করে
রংপুর বেসরকারি ডক্টরস ক্লিনিকে আমার মায়ের চিকিৎসা করা হলেও মাকে বাঁচাতে পারলাম না।
উল্লেখ্য যে, গরীব বীরমুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন গত ২০১৫ সালের শেষের দিকে মৃত্যুবরণ করেন।

তার ঘরে স্ত্রী অহেজা বেগম ও একমাত্র মেয়ে নার্গিস আকতার। বীরমুক্তিযোদ্ধা যে, সম্মানী ভাতা
পান তা দিয়ে চলত তাদের এই সংসার। সংসারে একমাত্র মেয়ে সন্তান ছাড়া অন্য কেউ না থাকায়
এই টাকা দিয়ে কোন মতে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

বীরমুক্তিযোদ্ধা জীবিত থাকাবস্থা অসুস্থ ’ হয়ে পড়লে অন্যের কাছে ধার-দেনা করে তার চিকিৎসা করা হতো। তিনি মারা যাবার পর সম্মানী ভাতার টাকাগুলো স্ত্রী অহেজা বেগম তার স্বামীর নেওয়া ধারের টাকা পরিশোধ করেন।

এমতাবস্থায় ৪ বছরের মাথায় তিনিও ব্রেনস্ট্রোক রোগে আক্রান্ত হয়। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার
রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বন্দবেড় গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী
অহেজা বেগম।

-মাসুদ পারভেজ রুবেল