মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

অপো রেনো ফোন। ছবি: অপো

বাজারে আসতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত অপো রেনো। অপোর সবচেয়ে শক্তিশালী দিক এর ক্যামেরা পারফর্মেন্স হলেও অপো রেনো সিরিজের শুধু ক্যামেরাই নয়, এর ডিসপ্লে নিয়েও বলবার আছে অনেক কিছুই।

অপো রেনো তে থাকছে ৬.৪ ইঞ্চি অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং রেনো ১০এক্স জুম এ থাকছে ৬.৬ ইঞ্চি অ্যামোলেড ডিসপ্লে। ২৩৪০×১০৮০ পিক্সেল রেজ্যুলেশনের স্ক্রিণের নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হয়েছে ৬ জেনারেশন গরিলা গ্লাস। তবে এর সবকিছুই ছাপিয়ে গেছে এর ৯৩.১% বডি-টু-স্ক্রিন রেশিও যা বর্তমানে স্মার্টফোন জগতে বিশ্বের অন্যতম সেরা বডি-টু-স্ক্রিন রেশিও ফোন। এছাড়াও এতে থাকছে ৬০০০০:১ কন্ট্রাস্ট রেশিও।

যদিও অপো রেনো এর ব্রাইটনেস রেটিং প্রকাশ করেনি, তবুও যেহেতু এটি ডিসিআই-পি৩ স্ট্যান্ডার্ড, তাই এর ডিসপ্লে যে বাজারের অন্যান্য স্মার্টফোন থেকে উজ্জ্বলতর হবে এটি বিনা দ্বিধায় বলা চলে। এতে থাকা অ্যামোলেড স্ক্রিন এবং ডিসিআই-পি৩ স্ট্যান্ডার্ড ডিসপ্লে থাকায় সরাসরি সূর্যের আলোতেও এর ডিসপ্লে থাকবে স্পষ্ট এবং উজ্জ্বল। আর কালার কম্বিনেশন, ব্রাইটনেস আর আল্ট্রা এইচডি প্যানোরমিক ডিসপ্লে বলে এতে ভিডিও দেখা এবং গেম খেলার জন্যে দূর্দান্ত ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে।

অপো রেনো এর ডিফল্ট ডিসপ্লে সেটিং এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন এটি চোখের উপর সর্বনিম্ন চাপ ফেলে। তারপরও এতে রয়েছে ডিসপ্লে অপশন পরিবর্তনের বেশ কয়টি অপশন। ফলে ব্যবহারকারীরা তাদের চাহিদা মাফিক ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করে নিতে পারেন এর ডিসপ্লে। স্লাইডার কন্ট্রোলারের মাধ্যমে ডিসপ্লে এর কালার টেম্পারেচার কুল থেকে ওয়ার্ম করে ফেলার সুযোগ থাকছে এতে। এছাড়া ভিভিড কালার আর জেন্টল অপশন বেছে নেবার সুযোগ থাকায় এতে যেমন কালার বাড়িয়ে নেবার সুযোগ থাকছে তেমনি চাইলে কিছুটা কম কন্ট্রাস্টের ফ্যাঁকাসে ধাঁচের কালার করে নেবারও সুযোগ থাকছে অপো রেনো তে।

যেকোন ফোনের ক্ষেত্রেই বড় ডিসপ্লে এর ব্যাটারির উপর প্রচন্ড চাপ ফেলে। এদিক বিবেচনা করে অপো রেনো এবং রেনো ১০এক্স জুমে থাকছে যথাক্রমে ৩৭৬৫ এবং ৪০৬৫ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। আর চটজলদি চার্জ করে নিতে এতে থাকছে ভুক ৩.০ ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি।

অপো রেনো তে বেজেল এতোটাই কম যে প্রথম দেখায় মনে হয় এর ডিসপ্লে বুঝি সামনের পুরোটা জুড়েই। তবে খুব ভালো করে লক্ষ করলে তবেই চোখে পড়ে এর নিচে ও উপর দিকে থাকা সরু কিনারা। এমনকি সামনে থাকা স্পীকারটিও এতো সরূ ভাবে স্থাপন করা হয়েছে স্পর্শ না করলে বোঝারই উপায় নেই এর অস্তিত্ব।

বাজারের অন্যান্য স্মার্টফোনের চেয়ে রেনো যে আলাদা এর প্রমাণ মেলে এতে কোন ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার না থাকায়, তবে ভয় নেই, রেনোর ডিসপ্লেতেই স্থাপন করা হয়েছে ‘গুডিক্স’ এর ইন স্ক্রিন ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর যা বিশ্বের মাত্র ৪০ টি স্মার্টফোন মডেলে স্থাপন করা হয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি গুডিক্স এর তৃতীয় প্রজন্মের সেন্সর হবে বলে জানা গেছে আর তাই অপোর মতে বাজারে থাকা যেকোন ফোনের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ নিখুঁত এবং ৩০% কম সময়ে ফোন আনলক করতে সক্ষম।

আজকের পত্রিকা/এমইউ