গ্রেফতার হওয়া দুই পুলিশ সদস্য।

পরিকল্পিতভাবে ৩ যুবককে অপহরণ করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির সত্যতা পাওয়ায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে গাজীপুর পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন এসপি শামসুন্নাহার।

এ সময় তিনি বলেন, ‘৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর এলাকায় অপহরণের অভিযোগে কালিয়াকৈর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মির্জাপুর থানার এএসআই মুসফিকুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলায় দুই পুলিশ সদস্য ছাড়াও অজ্ঞাত ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।’

এসপি বলেন, অপরাধী যেই হোক তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি শামসুন্নাহার জানান, গ্যাস নিয়ে ৩ যুবকের গাড়িটি ফিলিং স্টেশন থেকে একটু এগিয়ে যাওয়ার সময় সাদা পোশাকে কালিয়াকৈর থানার এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন ব্যাক্তিগত গাড়ি নিয়ে ও মির্জাপুর থানার এএসআই মুসফিকুর রহমানসহ তিন থেকে চারজন লোক একটি হায়েস মডেলের মাইক্রো নিয়ে ওই যুবকদের গাড়ির গতিরোধ করে। পরে গাড়ি থেকে রায়হান মিয়া, লাবিব উদ্দিন ও নওশাদ ইসলাম জোড়পূর্বক ধরে নিয়ে যায়। এ সময়ে চা খেতে যাওয়া বাকি দুই বন্ধু রক্ষা পায়। পরে ওই তিন বন্ধুকে নিয়ে টঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার দেওড়া নির্মানাধীন উড়ালসড়কের নিচে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিন বন্ধুকে মুক্তি দেওয়ার শর্তে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে ক্রসফায়ার দিয়ে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে বেশ কিছু সময় তাদের সঙ্গে টাকা নিয়ে দেন-দরবার হয়। একপর্যায়ে ওই দুই এএসআই তাদেরকে জানায় ১০ লাখ টাকা দিলেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

এসপি শামসুন্নাহার জানান, এরই মধ্যে তাদের হাত থেকে রক্ষাপাওয়া তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান মুঠোফোনে তাদের পরিবার ও কালিয়াকৈর থানা পুলিশকে অবহিত করে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কালিয়াকৈর থানার ওসি বিষয়টি মির্জাপুর থানা পুলিশকে অবহিত করে। পরে দুই থানার সহযোগিতায় তাদেরকে ওইদিন রাত ৮টার দিকে মির্জাপুর থানায় এবং পরে রাত ১২ টার দিকে কালিয়াকৈর থানায় নিয়ে আসা হয়।

এসপি আরও জানান, ঘটনাটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে জানাজানি হলে ৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে কালিয়াকৈর থানার এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মির্জাপুর থানার মুসফিকুর রহমানকে প্রত্যাহার করে নিজ নিজ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার (ওসি) আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনায় সম্পৃক্ততা পাওয়ায় দুই পুলিশ সদস্যের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৭ জনকে আসামি করে কালিয়াকৈর থানায় ভিকটিম রায়হান সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে উদ্ধার হওয়া তিন যুবকের আতঙ্ক এখনো কাটেনি। তারা বলছেন, অপরহরণের পর ওই দুই পুলিশ সদস্য তাদের ক্রসফায়ারের হুমকি দেন।