অপরাধী প্রত্যপর্ণ বিল নিয়ে হংকংয়ে গণবিক্ষোভ। ছবি : সংগৃহীত

অপরাধী প্রত্যর্পণের বিতর্কিত বিলের প্রতিবাদে হংকংয়ের পার্লামেন্টের সামনে অবস্থান নিয়েছেন লাখো ছাত্র জনতা। বিলটির বিষয়ে দ্বিতীয় পর্বের বিতর্ক শুরু হওয়ায় ১২ জুন বুধবার রাত থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মানবাধিকার সুরক্ষাসহ আইনগত পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রেখেই বিলটি তৈরি করা হচ্ছে বলে হংকং সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও সরকারের কথায় আস্থা রাখতে পারছেন না হংকংয়ের জনগণ।

হংকংয়ে গণবিক্ষোভের দৃশ্য। ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটিশ উপনিবেশ থাকা হংকংকে ১৯৯৭ সালে চীনের হাতে তুলে দেয়ার পর এবারের প্রত্যর্পণ বিল ইস্যুতে এ অঞ্চলে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ চলছে।

২০১৮ সালের এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত বিলটি তৈরি করা হয়। হংকংয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাইওয়ানে ছুটি কাটানোর সময় অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে।

প্রত্যপর্ণের এই বিলটি আইনে পরিণত হলে চীন সন্দেহভাজন যেকোনো ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবে। চীন কর্তৃক প্রস্তাবিত প্রত্যর্পণ বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে হংকংয়ের রাস্তায় বিক্ষোভ করছেন হাজার হাজার মানুষ। এক দশকের মধ্যে এটিই হংকংয়ে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ সমাবেশ।

এক দশকের মধ্যে এটিই হংকংয়ে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ সমাবেশ।ছবি : সংগৃহীত

কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে হংকংয়ের কোনো বন্দিবিনিময় চুক্তি না থাকায় গর্ভবতী বান্ধবীকে খুন করে হংকংয়ে ফিরে আসা ওই ব্যক্তিকে তাইওয়ানে বিচারের জন্য ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না।

প্রস্তাবিত প্রত্যর্পণ বিলটি পাস হলে এ রকম পরিস্থিতিতে সন্দেহভাজন অপরাধীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যাবে। কিন্তু হংকংয়ের সাধারণ জনগণ সন্দেহ করছেন, চীন এই আইনের সুবিধা নিয়ে হংকংবাসীর ওপর খবরদারি বাড়াতে পারে। এভাবেই বিষয়টি হংকংয়ে এ মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

পুলিশ কর্তৃক ব্যবহৃত টিয়ার গ্যাস। ছবি : সংগৃহীত

আন্দোলন প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে টিয়ার গ্যাস। ছবি : সংগৃহীতহংকং সরকার জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করেই তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। যার কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য হংকং সরকারই দায়ী থাকবে। তারা যদি জনগণের আবেগ বুঝতো তাহলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতো। আমি মনে করি, এর জন্য হংকং সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে।

হংকং সরকার বলছে, আইনটিতে নাগরিকদের সুরক্ষার বিয়ষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে কোনো ব্যক্তি যেন এই আইনের মাধ্যমে ক্ষতির শিকার না হন, তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের। আইনটি পাসে জনসমর্থন আদায়ে প্রচারণায় নামার ঘোষণা দিয়েছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী।

হারকোর্ট রোডে বিক্ষোভকারীদের উপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের পরবর্তী দৃশ্য। ছবি : সংগৃহীত

কিন্তু হংকংয়ের জনতা বিষয়টি মেনে না নিয়ে ৯ জুন রবিবার থেকে শুরু করে প্রত্যর্পণ বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ। হংকং প্রশাসনের পক্ষে থাকা ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, আইনজীবী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, গণতন্ত্রকামী ও ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠী এ প্রস্তাবিত বিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/আ.স্ব