‘বিউটি সার্কাস’ এর পরিচালক মাহমুদ দিদার। ছবি: সংগৃহীত

সার্কাসকে কেন্দ্র করে গণমানুষের পক্ষে এক নারীর সংগ্রামের লড়াই নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘বিউটি সার্কাস’। গেল ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রকাশিত হয়েছে নির্মাতা মাহমুদ দিদার এর পরিচালনায় সরকারি অনুদানে নির্মিত এই সিনেমার ফার্স্টলুক পোস্টার।

এবার অনুদান পাওয়া নির্মাতা মাহমুদ দিদারই ফেসবুকে জানিয়েছেন সরকারি অনুদান বৃত্তান্তে একটি সিনেমা তৈরি হওয়ার গল্প। সরকারি অনুদানে নির্মিত সিনেমাগুলোর অনুদানের টাকা আসে কয়েক কিস্তিতে। যার কারণে নির্মাতারা সিনেমা নিয়ে পড়েন বিপাকে।

সম্প্রতি সরকারি অনুদানের জন্য ১৪ মে তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় ৯ জন সিনেমার পরিচালক ও তাদের প্রস্তাবনা দেওয়া সিনেমার নাম। এই প্রজ্ঞাপনে উঠে আসে অভিনেত্রী শমী কায়সারের নাম। মাহমুদ দিদার প্রশ্ন তুলেছেন তার অনুদান পাওয়া নিয়েও।

শমী কায়সার সরকারি অনুদান নিয়ে সিনেমা বানাতে হবে কেন! এমন কৌতুহল নিয়ে মাহমুদ দিদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। যেখানে তিনি সরকারি অনুদান নিয়ে কিছু অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেছেন। বলেছেন, ‘বিউটি সার্কাস’ নিয়ে ব্যক্তিগত কিছু কথা। তাঁর দেওয়া ফেসবুক পোস্টটি আজকের পত্রিাকার প্রিয় পাঠদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো…

শমী কায়সার অভিনেত্রী ছিলেন, ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সংগঠন এফবিসিআই এর একজন নির্বাচিত নেত্রীও। অর্থকড়ির অভাব কি খুব তার? সিনেমা বানানোর জন্যে সরকার ৬০ লাখ টাকা অনুদান দিলো। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের নেকী হাসিল হলো।

বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমান এক লাখ ত্রিশ হাজার কোটি টাকা। আমি আবার বলছি ‘এক লাখ ত্রিশ হাজার কোটি টাকা! আমরা মনে হয় অংকে লিখতেও পারবোনা। বিষয়টা হচ্ছে এই পরিমাণ টাকা লুট পাট করে লোকজন খেয়ে ফেলেছে। এসব এখন মাফ করার পায়তারা চলছে।

‘বিউটি সার্কাস’ নামে একটা সিনেমায় হাত দিয়েছিলাম। প্রায় শেষে করে এনেছি। কিভাবে করেছি ভাবতেই পারিনা। আলাদীন দৈত্য হাতে নিয়েও কেউ মনে হয় পারতোনা। এতোটা ব্যয়বহুল এর পরিসর। চাইলেই পারতাম ২০ লাখ টাকার একটা টেলিফিল্ম বানিয়ে ছেড়ে দিতে। এখন মনে হচ্ছে তাইই করা উচিত ছিলো। একটা শট যেখানে আপোস করেছি সেখানে কলিজা ছিঁড়ে গেছে। পোস্ট প্রোডাকশনে এসে এখন বার বার আটকাচ্ছে। টাকা ছাড়া কাজ শে্ষ করা যাচ্ছেনা। অনুদান দিয়েছিলো ৩৫ লাখ। এর মধ্যে ১৫ লাখ টাকা এখোনো পাইনি। চ্যানেল আই দিয়েছে ৪০ লাখ, সেটা এসেছে ৭ কিস্তিতে। ৭ কিস্তি, হুম। এর মধ্যে আবার ১০ লাখ টাকা ব্যক্তিগত লোন। কি ভয়াবহ! তাদের কাছে চেয়েছিলাম ৭০ লাখ। এখন উলটো ১০ লাখ লোন চেপে গেলো। আমার বন্ধু বান্ধব, দূরের আত্মীয়, কাছের মানুষ, স্বল্প পরিচিত, পরিবার, ব্যক্তিগত উৎস থেকে যোগ হয়েছিলো আরও ১৫ লাখ টাকার মতো। ৬ লাখ টাকা যোগ হলো স্পন্সর থেকে। সমস্তই আমার মোট সময়, শ্রম, ব্যয়ের ৫০ ভাগও পুরণ করেনি। এখন চ্যানেল আই পুরো সিনেমাটা হাতে নিয়েছে। না, না! দায়িত্ব হাতে নেয়নি। ব্যবসার দিকটা আর কি! এই সিনেমার উপর তাদের বৈধ দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

৩০ লাখ টাকায় চ্যানেল আই বা ইম্প্রেস টেলিফিল্ম কি কি পেয়েছে। বিউটি সার্কাস কীভাবে বেহাত হয়ে গেলো চলুন দেখি…
১। চ্যানেল সত্ত্ব
২। ডিজিটাল রাইটস
৩। সিনেমা হল সত্ত্ব
৪। বিদেশে প্রদর্শনের টাকা
৫। টাইটেল স্পন্সর


সব, সব মানে সমস্তই এখন ইম্প্রেস টেলিফিল্ম এর। সেটা চুক্তি অনুসারে। আবার সিনেমাটা শেষ করে একদম মাখন করে আমাকেই রেডি করে দিতে হবে। কাউকে কিছু বললেই এখন প্যারা, বিরক্ত হয়। আমার দাবী ছিলো ইম্প্রেস টেলিফিল্ম আমাকে আরো ৩০ লাখ টাকা দিক, ওভারসিজ প্রজেকশন রাইটস দিক আমাকে। আমি একটা দারুন সিনেমা দেয়ার চেষ্টা করি। যা করেছি এ পর্যন্ত জীবন বাজী রাখার মতোই। অন্তত দুইটা রাইটসও যদি আমি পেতাম তাহলে আমার সিনেমা আটকে থাকে না। এই ঈদই রিলিজ পেতো।

আমি বার বার বলেছি। কিন্তু ইতিবাচক সাড়া পাইনি। সেটা চুক্তি করে নিয়েছে আমার কাছে। ‘নো ওয়ে’ তাদের বক্তব্য। যখন আমি সাইন করি, আমি অতটা ভাবতে চাইনি। আমার খুব দ্রুত শুট করা দরকার ছিলো। বৈষয়িক ছিলামনা তাই কোন হিসেব কষিনি। আমার সিনেমার লোয়েস্ট বাজেট ছিলো ১ কোটি ৫০ লাখ। এখন আমার ব্যক্তিগত ঋণ প্রচুর। অনুদানের বাকি ১৫ লাখ টাকা সিনেমা শেষ করে দিলে পাবো। সিনেমাটা কি দিয়ে শেষ করবো! সেটা দক্ষিণা বাতাসে হয় না, প্রেমে হয় না, ডেডিকেশন দিয়ে ফতুর হলেও হয় না। সিনেমা মানেই টাকা। এখানে কেউ টাকা ছাড়া কথা বলে না। সুতরাং কি আর করা। ভেঙে পড়ো, হতাশ হও, পর্দার আড়াল থেকে তথাকথিত বড় মানুষের টাকশাল দেখো, হাজার কোটি টাকার উত্থান দেখে যাও। ভুলেও নিজেকে দেখো না, নিজের পরিবার, জীবন, ইচ্ছা, আশাবাদ, ভবিষত্ব্য, নো, নো নো…

আজকের পত্রিকা/এসএ