ডাঃ কামনা শীষ

অনিয়ম আর দূর্ণীতির কারিগরের ক্ষ্যাতি অর্জন করেছেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ কামনা শীষ মজুমদার। তার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মেঘনার ভাঙ্গন কবলিত উপকুলীয় এ অঞ্চলে লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র মাধ্যম রামগতি উপজেলা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।

একজন মেডিকেল অফিসারের ঘুষ বানিজ্য, অসদাচরন, সরকারী সম্পদ লুটপাট, রোগীদের থেকে বেপরোয়া অর্থ আদায়, নারীদের প্রতি যৌন হয়রানি, তাসজুয়াসহ অসামাজিক কর্মকান্ডসহ নানা অনিয়ম আর ক্ষমতার অপব্যবহারে জিম্মি হয়ে পড়েছে হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তা, নার্স ও রোগীরা। বর্তমানে প্রায় অচলের অবস্থা এই হাসপাতালটি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের আলোকে সরেজমিনে গিয়ে পাওয়া যায় ডাক্তার কামনা শীষ মজুমদারের ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র। বেরিয়ে এসেছে তার ভয়ঙ্কর দুর্নীতির খতিয়ান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উক্ত মেডিকেল অফিসার কর্মরত নার্সদের সাথে প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার, কর্মকর্তাদের সাথে খারাপ আচরন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। হাসপাতালের মহিলা মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সুজনা মালেক তিনুকে প্রতিনিয়ত সরকারী বাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি ও এ হাসপাতাল থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে বেড়ান। ডাক্তার সুজনার অপরাধ তিনি তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। অন্যদিকে হাসপাতালের ডিউটি ফাঁকি দিয়ে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে এসে মদ, জুয়া ও তাস খেলায় ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সদ্য ঘূর্ণিঝড় ফনির তান্ডবের রাত্রে হাসপাতালের ডিউটি ফাঁকি দিয়ে অফিসার্স ক্লাবে এসে তাস খেলা অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান শরাফত উদ্দিন আজাদ সোহেলের নিকট হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি। পরে ক্ষমা চেয়ে রেহাই পান এই অফিসার। এছাড়া ২০১৫ সালে সরকারী অনুমোদন ছাড়া রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রায় ৪লক্ষ টাকার সরকারী গাছ রাতের আঁধারে বিক্রি করে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরীহ ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের চাকুরী খাওয়ার হুমকি দিয়ে অনৈতিক কাজ আদায় করেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে সুন্দরী নারী রোগীদের সাথে প্রায় সময় যৌনহয়রানি করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী জান্নাত, মরিয়ম ও বিলকিছ বেগমের।

উক্ত মেডিকেল অফিসার কর্মস্থলে এখতিয়ার বর্হিভুতভাবে অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ করে স্বাভাবিক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্থ করেন । যাতে জনগন স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে হাসপাতালে ভিজিটগ্রহন করা, পল্লী চিকিৎসক ও ফার্মেসী ব্যবসায়ীদের রেজিষ্ট্রেশন করার নামে কোন রকম আইনি প্রকৃয়া ছাড়াই ভয় দেখিয়ে অবৈধভাবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করে হাসপাতালে প্রকাশ্য ধুমপান ও মাদক সেবনের বিস্তর অভিযোগ রোগীদের।

অভিযুক্ত এই ডাক্তারের কর্মকান্ডে গোটা হাসপাতালে এক রাম রাজত্ব কায়েম করে বিভিন্ন সেক্টর থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তার দুর্ব্যবহার, একক কর্তৃত্ব কায়েম করে পুরো হাসপাতালে কর্মকর্তা কর্মচারীদের জিম্মি করে রাখেন তিনি। তার বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ তুললে বহিরাগত লোক দিয়ে সন্ত্রাসী ষ্টাইলে লাঞ্চিত করার হুমকি দিয়ে বেড়ান।

এছাড়া হাসপাতালের নার্স ও মহিলা রোগীদের উত্ত্যক্ত করাসহ নানান কায়দায় তাদের থেকে বিশেষ সুবিধা হাসিলের চেষ্টায় থাকেন এ মেডিকেল অফিসার। বিভিন্ন ঔষধ কোম্পনীর লোকজন থেকে মোট অংকের টাকার বিনিময়ে কমিশন বানিজ্য ওপেন সিক্রেট। এই বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গ্রহন ও সংবাদ কর্মীদের তদন্তকার্য চলাকালে টের পেয়ে পালিয়ে যায় এই কর্মকর্তা। পরে তার এই সব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে

মেডিকেল অফিসার কামনা শীষ মজুমদার বলেন কিছু লোক মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমার নামে কুৎসা রটাচ্ছে। আমি এই ধরনের কাজের সাথে জড়িত নই। এর ছেয়ে বেশি বললে নারাজ তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবদুর রহিম জানান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো অনেক আগ থেকে শুনতেছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রফিকুল হক জানান অপরাধী যে হোক তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মোঃ সোহেল রানা/লক্ষ্মীপুর