দেশে হোক আর প্রবাসে নানান উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভালো কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে গড়ে উঠে একটি সংগঠন। কিছু দিন যেতে না যেতেই নানা কারণে নিজেদের মধ্যে তৈরি হয় ভুল বোঝাবুঝির। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা হয় পদ পদবী নিয়ে। সংগঠন হলেই নির্বাচন হয় আর নির্বাচন মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তা থেকে তৈরি হয় দ্বন্দ্ব। ফলে ভাগাভাগিতে সংগঠনের হয় স্বপ্ন ভঙ্গ! একদল বিভিন্ন কারণে ভুল বোঝাবুঝি বা মনমালিন্য থেকে দল থেকে বের হয়ে তৈরি করে আরো একটি সংগঠন।

নিউ ইয়র্কে প্রতিটি সংগঠনেরই একাধিক ভাগ আছে। মোটামুটি আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির জন্য এই শহরকে সংগঠনের শহর বললে ভুল বলা হবে না। থানা, জেলা পর্যায়ের ছাড়াও এলাকা ভিত্তিক কিংবা বন্ধুদের নিয়ে গড়ে উঠে বিভিন্ন সংগঠন। চলে পাল্টা পাল্টি অনুষ্ঠান।

এইসব সংগঠন একবার ভাঙলে তা আর জোড়া লাগে না। ভাগাভাগির এই চিরাচরিত ধারা থেকে নিজেদের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে জেকসন হাইটস ব্যবসায়ী সমিতি নিজেদের মধ্যে মিলে গিয়ে সম্প্রতির এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলো। সম্প্রতি জমকালো একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হলেন তারা।

উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশিদের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ২৫ আগস্ট রবিবার অনুষ্ঠিত পথমেলাটি পরিণত হলো কমিউনিটির মিলবন্ধনণর অপূর্ব এক সমাবেশে।

দু’বছরেরও অধিক সময় যাবৎ বিভক্ত জেবিবিএর কর্মকর্তারা একসাথে মঞ্চে উঠে বিপুল করতালির মধ্যে ঐক্যের ঘোষণা দিলেন। আর এর মধ্যদিয়েই বহুজাতিক এই সিটিতে প্রবাসীদের এগিয়ে চলার পথ সুসংহত হলো বলে এই মেলায় উপস্থিত স্টেট সিনেটর, স্টেট এ্যাসেম্বলিম্যান, সিটি কাউন্সিলম্যান এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডাররা মন্তব্য করেন।

জেবিবিএর মত একটি বড় সংগঠনের অনৈক্য দূর হবার সুফল প্রকারান্তরে সাধারণ প্রবাসীরাই পাবেন বলে মন্তব্য করেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ও ইউএস সুপ্রিম কোর্টের এটর্নি মঈন চৌধুরী।

ঐক্যের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম এবং কামরুজ্জামান কামরুলের নেতৃত্বাধীন কমিটি এখন আরো জোরালোভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করতে সক্ষম হবেন। এই কমিটির সাথে একিভূত হলো শাহনেওয়াজ ও মাহাবুবুর রহমান টুকুর নেতৃত্বাধীন জেবিবিএ। শাহনেওয়াজ পথমেলা মঞ্চে উঠে অনৈক্য ভুলে যাবার ঘোষণা প্রদানের সময় জেবিবিএর সর্বস্তরের নেতারাও সেখানে ছিলেন। ঐক্য প্রক্রিয়ার সমন্বয় করেন হারুন ভূইয়া এবং ফাহাদ সোলায়মান।

জেবিবিএর এ পুনর্মিলনী সমাবেশ তথা পথমেলায় জেগে উঠা বাঙালিদের প্রাণের কথামালায় সাজানো সঙ্গীতে অংশ নেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদি, একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, কণ্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসান, ব্ল্যাক ডায়মন্ড হিসাবে খ্যাত কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, শাহ মাহবুব, কৃষ্ণাতিথির মতো বরেণ্য শিল্পীরা।

জেবিবির দ্বাদশ এই মেলায় শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন ল্যু, স্টেট এ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যটালিনা ক্রুজ, সিটি কাউন্সিলম্যান ডোনাভান জে রিচার্ডস, মূলধারায় জনপ্রিয় সংগঠক মাজেদা এ উদ্দিন, স্থানীয় পুলিশ প্রেসিঙ্কটের কমিনিটি এ্যাফেয়ার্স অফিসার মারিয়ো এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সেক্রেটারি ফখরুল আলম।

পুরো আয়োজন সূচারুরুপে পরিচালনা-সমন্বয়ে ছিলেন মেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারি ফাহাদ সোলায়মান এবং সদস্য-সচিব মোহাম্মদ আলম নমী, যুগ্ম সদস্য-সচিব বিপ্লব সাহা, কামরুজ্জামান বাচ্চু, শাহজাদা ইলিয়াস, যুগ্ম আহবায়ক নূরল আমিন বাবু, কোষাধ্যক্ষ সেলিম হারুন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন মেলা কমিটির কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন এবং রুহুল আমিন সরকার। স্থানীয় শিল্পীদের মধ্যে নাচ ও গানে আরো ছিলেন রোকসানা মির্জা, কামরুজ্জামান বকুল, শায়রা রেজা, জেরিন খান, সিমরান খান, ড. নীলা এবং শিশুশিল্পী শৌভিত চৌধুরী।

মেলামঞ্চে উঠে প্রবাসীদের ঐক্যের বন্ধনে জেগে উঠার জন্যে অভিনন্দন জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ। মেলায় এসেছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার আব্দুর রহিম হাওলাদার, সোসাইটির নির্বাচনে সেক্রেটারি প্রার্থী ও কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার মোহাম্মদ আলী।

মেলায় বিপুলভাবে সাড়া দেয়ায় প্রবাসীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জেবিবিএর সভাপতি আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান কামরুল, মেলা কমিটির আহ্বায়ক হারুন ভূইয়া এবং সদস্য-সচিব মো. নমী।

মেলায় লটারীতে একটি ব্র্যান্ড নিউ গাড়ী উপহার দেয়া হয়।

জেকসন হাইটস ব্যবসায়ী সমিতির ঐক্যের এই পথ ধরে অন্যান্য ভেঙ্গে যাওয়া সংগঠনগুলো নিজেদের ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে মিলে মিশে কাজ করতে সক্ষম হবেন বলে সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।