প্রায় আট মাস পর যখন তার মৃত্যুর খবরটি পরিবার পেল তখন তিনি মাল্টার মর্গে। ছবি প্রতীকী : সংগৃহীত

ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারান এক বাংলাদেশি ইমরান খান ওরফে সুজন। শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার কেদারপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান খানের ছেলে ইমরান ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে তৃষ্ণায় নৌকায় মৃত্যু হয় তার। তার সঙ্গে আরও অনেকে মারা যান। পরিবার তার মরদেহ নিচ্ছে না অতিরিক্ত খরচের কারণে।

দীর্ঘদিন পরিবারের লোকজন যখন তার কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না তখন তারা ধরেই নিয়েছিলেন ইমরান আর বেঁচে নেই। কিন্তু প্রায় আট মাস পর যখন তার মৃত্যুর খবরটি পরিবার পেল তখন তিনি মাল্টার মর্গে। কিন্তু অতিরিক্ত খরচের কারণে মরদেহ  দেশে আনতে চায় না তার পরিবার।

বেঁচে যাওয়া কয়েকজন বাংলাদেশি যুবকের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, ‘২০১৮ সালে কিছু অসাধু দালালের প্রলোভনে ৮৪ জন অবৈধ দেশি-বিদেশি মানুষের সাথে  ইউরোপের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় পাড়ি জমায় সুজন। বিভিন্ন সময়ে তাদের গোপন অবস্থানে থাকতে হয়। পাহাড়ের গুহায় অথবা মরুভূমির কোনো এক বালুর ঘরে। সবকিছুর ইতি ঘটিয়ে ১৬ আগস্ট ২০১৮ সালে ৮৪ জন অবৈধ দেশি-বিদেশি সঙ্গী নিয়ে ইমরান খান পাড়ি জমায় ভূমধ্য সাগরের বুকে। তাদের সাথে প্রয়োজনীয় খাবার ও পানি ছিল না। পানির পিপাসায় মারা যায় ইমরান খান।’

অবশেষে ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী জীবিতদের আশ্রম কেন্দ্রে রাখা হয় এবং মৃত ইমরানকে মাল্টার সরকারি মর্গে রাখা হয়।

ইতালিতে অবস্থানরত ইমরানের আপন বোন এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত তার ভাই শোভন খানের সঙ্গে অনেকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তারা কোনোভাবেই মৃত ইমরান খানের মরদেহ গ্রহণ করতে চায়নি। কারণ অনেক টাকা খরচ হবে তাই।

কিছুদিন আগে মাল্টায় নবনির্বাচিত আওয়ামী লীগের কমিটি হওয়ার পর সংগঠনের সভাপতি মশিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আপেল আমিন কাওসার এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক ও মু্ন্সী মোরশেদুল আহমদ, সহ-সভাপতি কাজেম আলী স্বপন এবং সহ-সভাপতি জাকারিয়া মুন্সি, শাহিদ মাস্টার ও শিমুল বড়ুয়া এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব দাসসহ অন্য নেতাকর্মীর নেতৃত্বে ইমরান খানের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আসে।

এই প্রসঙ্গে ২ মে বৃহস্পতিবার ও ৩ মে শুক্রবার মাল্টার স্থানীয় সরকারি প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং মাল্টার প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়।

মাল্টা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সিনিয়র সহ-সভাপতিসহ মাল্টার প্রশাসন জানিয়েছেন, ‘মরদেহটি দেশে পাঠাতে ৬-৭ লাখ টাকা খরচ হবে। যেভাবেই হোক ইমরান খানকে তারা দেশে পাঠাবেন’।

সব প্রক্রিয়া শেষ করে মে মাসেই ইমরান খানের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব বলেও জানান তারা।

আজকের পত্রিকা/বিএফকে/এমএইচএস