হাসপাতালে নেয়াকালে শাহীনুর।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে স্ত্রীর স্বীকৃতি চাইতে এসে অগ্নিদগ্ধে নিহত তরুণী শাহিনুর আক্তারের দাফন হবে চটগ্রামের রাউজানে। ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শাহিনুর আক্তারের ময়নাতদন্ত শেষ হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ চট্টগ্রামের রাউজানে বাবার বাড়ীতে পারিবারিক কবরস্থানের দাফনের কথা রয়েছে বলে জানান নিহতের মামা কামাল উদ্দিন।

স্থানীয়রা জানায়, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার লুধুয়া ফলকন এলাকার মনর আলীর ছেলে রিকশাচালক মো. সালাউদ্দিন আইয়ুব নগর এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ঘরজামাই হিসেবে থাকেন। দেড় বছর আগে মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে শাহেনুর নামে ওই তরুণীর পরিচয় ও সম্পর্ক হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী ও সন্তানদের কথা গোপন করে সালাউদ্দিন ওই তরুণীকে চট্টগ্রামের একটি কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে করেন।

বিষয়টি জানতে পেরে রবিবার ওই তরুণী স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে চট্টগ্রাম থেকে সালাউদ্দিনের শ্বশুর বাড়িতে আসেন। এ নিয়ে ঝামেলা তৈরি হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজ উল্যাহসহ স্থানীয়রা ওই তরুণীকে বিয়ের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেন। পরে ওই তরুণী রিকশাযোগে স্থানীয় বাজারে গিয়ে কেরোসিন কিনে আনেন এবং সালাউদ্দিনের শ্বশুর বাড়ির পাশের একটি সয়াবিন ক্ষেতে গিয়ে নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন ছুুটে গিয়ে পানি দিয়ে আগুন নেভায়।

পরে ওই ইউপি সদস্যসহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থা অবনতি ঘটলে ওই তরুণীকে ঢামেকে প্রেরণ করেন। ২২ এপ্রিল সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢামেকে মৃত্যু হয় শাহিনুর আক্তারের।

উল্লেখ্য: এ ঘটনায় ২২ এপ্রিল সোমবার রাতে কমলনগর থানায় মামলা করেছেন ওই তরুণীর পিতা জাফর উদ্দিন। এতে এজাহার নামীয় ৫ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনকে আসামী করা হয়। এর মধ্যে ৪জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন, সালাউদ্দিনের দুই ভাই মোঃ আলাউদ্দিন ও আবদুর রহমান বিশ্বাস, স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজ উদ্দিন ও চৌকিদার আবু তাহের। তারা বর্তমানে থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

সোহেল রানা/লক্ষ্মীপুর