logo

শুক্রবার ০১, এপ্রিল ২০১৬ . ১৮ চৈত্র ১৪২২ . ২২ জমাদিউল সানি ১৪৩৭

অর্বাচীনের কুকুরপ্রীতি
০১ এপ্রিল, ২০১৬
দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো দরকার। তাই বাসের আশা না করে ম্যাক্সিতে উঠলো সগির। কিন্তু যানজটের জন্য গাড়ি এগুতে পারছে না। সুতরাং উসখুশ করা ছাড়া কিছুই করার নাই তার। ক্রমাগত ক্লান্তিকর উসখুশ একসময় তন্দ্রায় পরিণত হয়।

‘বালের ফ্লাইওভার বানায় শালারা...বালের উন্নয়ন।’

আচমকা উন্নয়নবিরুদ্ধ বাজখাঁই আওয়াজে তন্দ্রা ছোটে সগিরের। বেশ হৃষ্টপুষ্ট গতর বাজখাঁই আওয়াজের।

ক্ষীণকন্ঠী এক প্রবীণ ক্ষীণ প্রতিবাদ করলো, উন্নয়ন চাইলেতো একটু সময় দিতে হবে বাবা।

আরে বালের উন্নয়ন, এই বালের সরকার বালের উন্নয়ন করে, উন্নয়নের নামে খালি লুটপাট। শালা ইন্ডিয়ার দালাল। কথায় কথায় খালি জাতির পিতার স্বপ্ন!

আরে আমরা হইলাম মুসলমান, মুসলমানের আবার জাতির পিতা কী? ভীষণ চোটপাট বাজখাঁইয়ের।

প্রবীণ বললো, কেন বাবা পাকিস্তানেরওতো জাতির পিতা আছে, ওরাওতো মুসলমান।

বাজখাঁই মিনমিন করে, আছে নাকি!

তৃতীয়জন বললো, হ্যাঁ আছে, কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

বাজখাঁই বললো, ও কায়েদে আজম! উনিতো মহান নেতা।

প্রবীণ বললো, বঙ্গবন্ধুও মহান নেতা। আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।

বাজখাঁই বিরক্ত, এই আবার বালের ডাক, বঙ্গবন্ধু, ঐ শালাতো একটা কুত্তাবন্ধু, ঐ শালার জন্যইতো দেশটার এতো দুর্গতি।

প্রবীণ বললো, বাবা আপনি এটা ঠিক বললেন না। কিন্তু আমি এর কোন প্রতিবাদ করবো না। কারণ আমি আওয়ামী লীগ সাপোর্ট করি না।

গাড়ির আরো দু’-একজন অনুচ্চারিত প্রতিবাদ করলো যে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এরকম অশ্লীল মন্তব্য করা ঠিক না।

কিন্তু বাজখাঁইয়ের তোপের মুখে কেউ টিকতে পারলো না। বাজখাঁই তার অশ্লীল তত্ত্ব উগড়ে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে সগিরের গন্তব্য এসে গেছে। গাড়ি থেমেছে। বেশ কিছু মানুষ জটলা করছে দরজার সামনে। সগির নামার জন্য দাঁড়িয়েছে, বাজখাঁই তাকে সাইড দেয়, কিন্তু সগির নামে না।

হুংকার ছেড়ে ড্রাইভারকে বলে, আমার পারমিশন ছাড়া এক পা আগাবা না। তারপর বাজখাঁইয়ের কলার চেপে ধরে, নাম শালা।

বাজখাঁই প্রতিবাদ করে, কি ব্যাপার, আমার কলার ধরছেন ক্যান?

ক্রোধে ফেটে পড়ে সগির, বঙ্গবন্ধুরে তুই কুত্তাবন্ধু বলছিস না... চল কুত্তাবন্ধু কারে কয় দেখামু।

এবার  গেটের সামনের জটলার তৎপরতা শুরু হয়।

মুহূর্তের মধ্যে টেনেহিঁচড়ে নামায় বাজখাঁইকে। ম্যাক্সি চলে যায়। বাজখাঁইকে আনা হয় সগিরদের মহল্লায়। প্রাথমিক উত্তম-মধ্যমের পর শার্ট-প্যান্ট খুলে পিছমোড়া করে বাঁধা হয় খুঁটির সাথে। থাক সারারাত দিগম্বর হয়ে।

আধঘন্টার জন্য সগির তার বন্ধুদের হিল্লায় বাজখাঁইকে রেখে পাশের গলিতে যায় তার পূর্ব নির্ধারিত কাজ শেষ করতে।

কিন্তু দশ মিনিটও হয়নি, হঠাৎ খবর আসে বাজখাঁইকে কুকুর আক্রমণ করেছে।

সগির দৌড়ে যায়। ততক্ষণে মহল্লার ক্লিনিক থেকে ঢাকা মেডিক্যালে বাজখাঁই। জরুরি বিভাগ। অস্থির পায়চারী করছে সগির। ডাক্তার বেরিয়ে এলো।

রুগির সাথে কে আছেন?

সগির এগিয়ে গেলো।

ডাক্তার বললো, অবস্থা খুব খারাপ। কুকুর পুরো অ-কোষটা ছিঁড়ে ফেলেছে।

আমরা সেলাই করে দিয়েছি। তবে তিনি স্বাভাবিক যৌন জীবন ফিরে পাবেন কিনা সন্দেহ।

সগির হতবাক। এত বড় শাস্তি কখনো কল্পনাও করেনি। ভীষণ অসহায় হয়ে পড়ে সে।

সর্বশেষ খবর

শঙ্খচিল এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by