logo

বৃহস্পতিবার ২৯, সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৪ আশ্বিন ১৪২৩, ২৬ জিলহজ ১৪৩৭

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২ উইকেটে হারিয়ে দারুণভাবে তিন ম্যাচ সিরিজে সমতা ফেরাল আফগানিস্তান। বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দাপট দেখিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে জিতেছে আফগানরা। আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে ২০৮ রানে আটকেবিস্তারিত...

লক্ষ্মীপুর সদরে ভাবি হত্যায় দেবর বেলাল হোসেনের ফাঁসি ও রামগতিতেবিস্তারিত...

রাজধানীর কল্যাণপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত নয় জঙ্গির লাশবিস্তারিত...

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আ স মবিস্তারিত...

তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আইয়ের প্রাঙ্গণে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের প্রথমবিস্তারিত...

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৭০তম জন্মদিন আজবিস্তারিত...

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্ততবিস্তারিত...

জনমত জরিপ

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়েছে। বুধবার বৃষ্টিভেজা সকালে এই লেখকের কফিন ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘর থেকে তেজগাঁওয়ে চ‌্যানেল আই কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আইয়ের প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেওয়া হয় বাংলা একাডেমিতে। সেখান থেকে বেলা ১১টায় সৈয়দ হকের কফিন নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মতো বিদায় জানাবে সব্যসাচী এই লেখককে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদও তার মরদেহে শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে সৈয়দ শামসুল হকের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হবে কুড়িগ্রামে। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে তার কবর হবে। ফুসফুসের ক‌্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈয়দ হকের মৃত‌্যু হয়। রাতে গুলশান ৬ নম্বর রোডে তার বাড়ি ‘মঞ্জুবাড়িতে’ শেষ গোসলের পর কফিন রাখা হয় ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে। ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর এই কুড়িগ্রাম শহরের থানা পাড়ায় তার জন্ম। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে তার কবর হবে। সৈয়দ হকের বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। ১৯৫৩ সালে ‘একদা এক রাজ্যে’ কাব্য দিয়ে তার যাত্রা শুরু হলেও ‘তাস’ নামক গ্রন্থ আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। তারপর অবিরাম লিখেছেন সৈয়দ হক। সাহিত‌্যের সব শাখায়। তবে সব ছাপিয়ে কবি পরিচয়টিই প্রধান মনে করতেন তার সাহিত‌্যাঙ্গনের বন্ধুরা। বৈশাখে রচিত পংক্তিমালা, পরাণের গহীন ভেতর, নাভিমূলে ভস্মাধার, আমার শহর ঢাকা, বেজান শহরের জন্য কেরাম, বৃষ্টি ও জলের কবিতা- এসব কাব‌্যগ্রন্থের অজস্র কবিতায় তার নানা নীরিক্ষা জনপ্রিয়তাও এনে দেয় তাকে। কাব্যনাট্য রচনায় ঈর্ষণীয় সফলতা পাওয়া সৈয়দ হক নূরলদীনের সারাজীবন, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, গণনায়ক, ঈর্ষা ইত্যাদি নাটকে রেখেছেন মুন্সীয়ানার স্বাক্ষর। ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ ও ‘নুরলদীনের সারাজীবন’ বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে। তার মৃত‌্যুর পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা লেখেন, “সমকালীন বাংলা কবিতা ও বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতার এক সর্বাগ্রগণ্য কারুকৃৎ কবিশ্রেষ্ঠ সৈয়দ শামসুল হক এখন থেকে চিরজীবিত। “মানবশরীর নিয়ে আশি বছরের অধিককাল মর্ত্যবাসী থেকে এখন তিনি মহাবিশ্বের মহাকালের আদিঅন্তহীনতায় সমর্পিত। তাঁর সৃষ্টি অবিনাশী, তাঁর সত্তা অবিনাশী, তাঁর আলোক চির-সক্রিয় থাকবে বাঙালির মনে ও মননে।” সৈয়দ হক মহাকাব্যিক পটভূমিকায় বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ নামে দীর্ঘ উপন্যাস যেমন লিখেছেন, তেমনি ছোট আকারের উপন্যাস লিখেছেন সমান তালে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ তাৎপর্যময় হয়ে উঠেছে তার ‘নিষিদ্ধ লোবান’সহ নানা উপন‌্যাসে। ‘খেলারাম খেলে যা’, ‘নীল দংশন’, ‘মৃগয়া’, ‘সীমানা ছাড়িয়ে’, ‘এক মহিলার ছবি’, ‘দেয়ালের দেশ’, ‘স্তব্দতার অনুবাদ’, ‘এক যুবকের ছায়াপথ’, ‘মহাশূন্যে পরানমাস্টার’, ‘তুমি সেই তরবারী’, ‘দ্বিতীয় দিনের কাহিনী’, ‘অন্তর্গত’, ‘এক মুঠো জন্মভূমি’, ‘শঙ্খলাগা যুবতী ও চাঁদ’, ‘বাস্তবতার দাঁত ও করাত’, ‘বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ’ ‘আয়না বিবির পালা’সহ ৫০টির বেশি উপন‌্যাস এসেছে তার হাত দিয়ে। ছোটগল্পে তিনি নিজের এলাকা উত্তরাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষের জীবনের মর্মন্তুদ ছবি একেছেন। গত শতকের ষাট, সত্তর ও আশির দশকে অনেক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট‌্যের সঙ্গে চলচ্চিত্রের জন‌্য গানও লিখেছেন সৈয়দ হক। তার লেখা গান ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘তোরা দেখ দেখ দেখরে চাহিয়া’, ‘চাঁদের সাথে আমি দেব না তোমার তুলনা’র মতো বহু গান এখন মানুষের মুখে ফেরে। তার নিষিদ্ধ লোবান উপন‌্যাস নিয়ে কয়েক বছর আগে গেরিলা নামে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়। সংবাদপত্রে কলাম লেখাকে আকর্ষণীয় করে তোলার ক্ষেত্রে অনেকেই সৈয়দ হকের দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত ‘হৃৎকলমের টানে’র কথা বলেন। সৈয়দ হকের আত্মজীবনী ‘প্রণীত জীবন’ও প্রশংসিত হয়েছে সাহিত‌্যাঙ্গনের মানুষদের কাছে।

আর্কাইভ

শুক্রবারের অায়োজন

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by